রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি
ইত্তেফাক রিপোর্ট
‘কত মায়ের বুক খালি হইছে রে, আমার বুকও তো খালি পইড়া থাকব রে মা। টাকা দিয়া কী করমু, তোরে তো পামু না কম্পা। কী আগুন জ্বলছে, তোরে দেখানো যাইব না। কেন যে তোরে চাকরি করতে দিতে রাজি হইছিলাম। সোনার টুকরা মাইয়া আমার কয়লা হয়ে বাড়ি ফিরতাছে।’ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গের সামনে এভাবেই বিলাপ করছিলেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত কম্পা রানী বর্মনের (১৪) মা সুমা রানী বর্মন। পাশেই কান্নায় ভেঙে পড়েন অন্য লাশের স্বজনেরাও।
গতকাল দুপুর ১২টা থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ২১টি লাশ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। মর্গের মরচুয়ারি থেকে লাশের কফিন বের করার সঙ্গে সঙ্গেই আহাজারিতে ভেঙে পড়তে দেখা যায় বেশির ভাগ স্বজনকে। তাদের কান্না আর চিত্কার মুহূর্তেই আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে সেখানে। কম্পার বাবা মাছবিক্রেতা পরবা চন্দ্র বলেন, মৌলভীবাজারের চানপুরে তাদের গ্রামের বাড়ি। তিন মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে কম্পা তৃতীয়। স্কুল বন্ধ থাকায় রূপগঞ্জের গাউছিয়া এলাকায় ফুফু পতি বর্মনের বাসায় সে বেড়াতে আসে। সেখান থেকে প্রতিবাশীদের মাধ্যমে সেজান জুস কারখানায় কাজ নিয়েছিল কম্পা। ৭ জুলাই চাকরি নিয়ে ৮ জুলাই পুড়ে মারা যায় সে।
নারায়ণগঞ্জ সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, গত বুধবার স্বজনদের কাছে যে প্রক্রিয়ায় ২৪টি লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, একইভাবে গতকাল ২১টি লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। হস্তান্তরের সময় লাশের দাফনকাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি তিনটি লাশের পরিচয় শনাক্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
যাদের লাশ হস্তান্তর হলো : কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলার রঘুনন্দনপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের মেয়ে মাহমুদা আক্তার, করিমগঞ্জ উপজেলার আব্দুল কুদ্দুসের মেয়ে রহিমা আক্তার, সদর উপজেলার গাগলাইল গ্রামের মঞ্জুর স্ত্রী মিনা খাতুন, সদর উপজেলার চিংড়িরচর গ্রামের মুর্শিদ মিয়ার মেয়ে আমেনা আক্তার, কটিয়াদী উপজেলার চান্দু মিয়ার মেয়ে রাবেয়া আক্তার, সদর উপজেলার চৌদ্দশত বগালেরপাড় গ্রামের মো. সেলিমের মেয়ে রহিমা, সদর উপজেলার কালিয়ারকান্দা গ্রামের চান মিয়ার ছেলে নাজমুল হোসেন, মিঠামইন উপজেলার মোহাম্মদ সেলিমের মেয়ে সেলিনা আক্তার, কটিয়াদী উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার মেয়ে তাসলিমা আক্তার, করিমগঞ্জের মুথরাপাড়া গ্রামের আ. কাউয়ুমের মেয়ে ফাতিমা আক্তার।
ভোলার শশীভূষণ থানার এওয়াজপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে নোমান, একই জেলার দক্ষিণ আইচা থানার চরহরিশ গ্রামের হাফেজ ফখরুল ইসলামের ছেলে মো. শামীম, চরফ্যাশন উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মো. ফজলুর রহমানের ছেলে হাসনাইন, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার মুইরা চরণ সরকারের মেয়ে শেফালী রানী সরকার, একই উপজেলার সেলিম মিয়ার স্ত্রী আমৃতা বেগম, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার পূর্বরাম গ্রামের মৃত জাকির হোসেনের মেয়ে শান্তা মনি, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার তেঁতুলিয়া সিকদারপাড়া গ্রামের গকুল শিকদারের ছেলে মাহবুবুর রহমান, জামালপুরের সদর উপজেলার গোডারকান্দা গ্রামের শওকত হোসেনের ছেলে জিহাদ রানা, নোয়াখালীর দক্ষিণ হাতিয়া থানার নতুন শুকচর গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে আকাশ মিয়া,
মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার চানপুর গ্রামের পরভা চন্দ্র বর্মনের মেয়ে কম্পা রানী বর্মন এবং নিলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পানিয়ালপুকুর দোলাপাড়া গ্রামের মনকার হোসেনের ছেলে স্বপন মিয়া।
