ঢিলেঢালা লকডাউন

পাড়া-মহল্লা ও দোকানে মানুষের চাপ বেড়েছে

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২১, ২২:৪০

করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর লকডাউনে গতকাল শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মানুষের চাপ বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তায় গড়ির চাপ গত কয়েক দিনের মতোই বেশি। পাড়া-মহল্লার দোকানপাটও স্বাভাবিক সময়ের মতো খোলা। করোনা ভাইরাসের কারণে গত দেড় বছরের মধ্যে এখনই সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা পার করছে বাংলাদেশে। তবে দিন যত যাচ্ছে, রাস্তাঘাটে মানুষও তত বাড়ছে।

মিরপুর, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, সাত মসজিদ রোড, আদাবর, শিয়া মসজিদ এলাকায় রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল বেশ বেড়েছে। শিয়া মসজিদ বাজারে ক্রেতা আলী আহমেদ বলেন, বাজারে বোঝার উপায় নেই যে লকডাউন চলছে। এই লকডাউন এখন নামে। মতিঝিল শাপলা চত্বরের কাছে ফুটপাতে জিন্স প্যান্ট বিক্রেতা শফিক বলেন, লকডাউনের কড়াকড়ি কমে গেছে। সকাল থেকে মতিঝিল সড়কে প্রচুর প্রাইভেট কার এসে রাস্তার দুই ধারে পার্কিং করা। এখানকার প্রতিষ্ঠানে এখন পুরোদমেই কাজকর্ম চলছে।

শান্তিনগর বাজারের কাছে ন্যায্যমূল্যের ডাল, তেল, চিনি বিক্রির ট্রাকের সামনেও ভিড় রয়েছে মানুষের। লাইনে দাঁড়ানো আরিফা আক্তার বলেন, ‘লকডাউন         শেষ হলে ভিড় বেড়ে যাবে। সে জন্য সকালে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। ফকিরেরপুল, আরামবাগের মোড়ে মোড়ে মানুষের উপস্থিতিও বেড়েছে। কেউ এসেছেন বাজার করতে, কেউ অফিসে যাচ্ছেন। ফকিরেরপুল পানির ট্যাংকির গলির বাসিন্দা রফিকুল হক বলেন, ‘যে সংখ্যার মানুষ রাস্তার ফুটপাতে দেখা যায়, রাস্তায় প্রাইভেট কার যেভাবে বেড়েছে, তাতে এই লকডাউন দেওয়ার কোনো মানে নেই। আপনি দেখেন, বাজারে কত মানুষ। তাদের অনেকের মুখের মাস্ক গলায় ঝোলানো। মানুষ এখনো সচেতন হচ্ছে না। এটা আমাদের সবার জন্য বিপদ।’

রাজধানীর নিউ মার্কেট, নীলক্ষেত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সরব রয়েছেন। কেউ ব্যক্তিগত গাড়ি বা মোটরসাইকেল নিয়ে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাইরে বের হয়েছেন কি না, তারা জানতে চাইছেন। নীলক্ষেতের অধিকাংশ দোকান বন্ধ থাকলেও লেপ-তোশক বিক্রির কয়েকটি দোকান খোলা দেখা যায়। কাঁটাবন মার্কেটের উল্টো দিকে ভ্রাম্যমাণ চায়ের দোকানে সাভার থেকে কাঁচামাল নিয়ে আসা একটি কভার্ড ভ্যানের হেলপার আবুল হোসেনকে মাস্ক ছাড়া দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। জানতে চাইলে তিনি বলেন, সকালে নাশতা করতে বের হয়েছেন বলে মাস্ক পরতে পারেননি। সব সময় তিনি মাস্ক পরেন।

তার ঠিক পাশেই কয়েকটি ব্যাংকের বুথের নিরাপত্তাকর্মী কাসেম আলী ও জিল্লুর রহমানকেও মাস্ক ছাড়া দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। জিল্লুর বলেন, প্রচণ্ড গরমের কারণে মাস্ক থাকলেও তিনি পরেননি। মিরপুর এলাকায় দোকানপাট খুলেছে, মানুষের চলাচলও বেড়েছে। সকাল থেকে পীরেরবাগ কাঁচাবাজারের অধিকাংশ দোকানপাট খোলা দেখা যায়। আগের দিনের তুলনায় রাস্তায় রিকশার সংখ্যাও ছিল বেশি।