করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর কঠোর লকডাউনেও রাজশাহীতে আগের চেয়ে রাস্তায় বেড়েছে মানুষের চলাচল। রাস্তায় ভিড় বেড়েছে যানবাহনেরও। আর এসব দেখে অনেকে বলাবলি করছেন, ‘কঠোর লকডাউন এখন পথ হারিয়েছে।’ গতকাল শনিবার রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তায় গাড়ি গত কয়েকদিনের চেয়ে অনেক বেশি।
শনিবার নগরীর রাজারহাতা, সাহেববাজার, লক্ষ্মীপুর, তালাইমারীসহ বিভিন্ন এলাকায় রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপে রীতিমতো যানজট লেগে যায়। অথচ শুক্রবার ছুটি থাকায় রাস্তায় যান চলাচল কম ছিল। তবে শনিবার এ যাবত্কালের চেয়ে বেশি যানবাহন রাস্তায় চলাচল করতে দেখা গেছে। এছাড়া নগরীর অধিকাংশ দোকানপাট ছিল খোলা। মার্কেটগুলো কৌশল করে মেইন গেট বন্ধ রেখে পেছনের গেট খোলা রাখা হয়। এছাড়া মার্কেটের ভেতরের দোকানগুলোও মেইন সার্টার গেট বন্ধ রেখে বিকল্প ব্যবস্থায় চলছে বেচাকেনা। এছাড়াও পাড়া-মহল্লার দোকানপাটও স্বাভাবিক সময়ের মতোই খোলা ছিল।
তবে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগের এক জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, শনিবার রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডের ৮৪টি কেন্দ্রে একযোগে করোনার গণটিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কারণে মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে নগরীতে যানবাহন চলাচলের ওপর কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছিল। এই সুযোগ নিয়েছেন ব্যবসায়ী শ্রেণির লোকজনও। ফলে নগরীতে চলমান কঠোর লকডাউন পরিস্থিতি মনে হয়নি, স্বাভাবিকই মনে হয়েছে।
করোনা ভাইরাস মহামারির দেড় বছরে বর্তমানে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা পার করছে বাংলাদেশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ১ জুলাই দেশে কঠোর লকডাউন জারি করা হলেও বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে কোরবানির ঈদের সময় ৯ দিন তা শিথিল করা হয়েছিল। ঈদের ছুটির পর ২৩ জুলাই থেকে আবার লকডাউন শুরু হলেও এর মধ্যে দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হয়েছে। চলমান কঠোর লকডাউন আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। তবে দিন যত যাচ্ছে, রাস্তাঘাটে মানুষও তত বাড়ছে, জীবিকার তাগিদে মানুষ আর বিধিনিষেধ মানতে চাইছে না। রাজশাহী শহরে কঠোর লকডাউন শুরু হয়েছে গত ১১ জুন থেকে।
