লোহাগড়ায় মধুমতীতে ভাঙন
নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল কুমার সেন জানান, ভাঙন রোধে নেওয়া প্রকল্পের কাজের মেয়াদ তিন বছর। আর বর্ষা মৌসুমে সাধারণত কাজ করা হয় না। তাছাড়া বর্তমানে ফান্ডও নেই, তাই কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে
লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় মধুমতী নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনে নদী তীরবর্তী ঘাঘা গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ, মাকড়াইল, চরবকজুড়ি, তেতুলিয়া ও লঙকারচরে গত এক সপ্তাহে অর্ধশত বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এসব ভাঙন পয়েন্টে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প গ্রহণ করলেও চলতি বর্ষা মৌসুমের আগে কাজ শেষ করতে পারেনি। ফলে ভাঙন তীব্র হয়েছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীর।
শনিবার বিকালে নদী ভাঙনকবলিত তেঁতুলিয়া-চরবকজুড়ি এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, তেঁতুলিয়া গ্রামটি কয়েক বছর আগেই উপজেলার মানচিত্র থেকে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। গ্রামের সচ্ছল বাসিন্দারা গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে গেলেও দরিদ্র জনগোষ্ঠী পাশের কৃষি জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করে। বর্তমানে সেখানেও ভাঙন শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে ঐ গ্রামের হারুন মোল্যা, ইউনুস শেখ, সাহেদ আলী, সুরুজ মোল্যা, জব্বার মোল্যা ও আকিরণ বেওয়ার বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন অন্যরা। ঐ গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ মোল্যা জানান, বসতবাড়ি ছাড়াও অনেক কৃষি জমি নদীতে ভেঙে গেছে। বারবার বসতবাড়ি স্থানান্তর করা আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
শিয়রবর এলাকার মধুমতী নদী ভাঙন প্রতিরক্ষা কমিটির সভাপতি সৈয়দ আশরাফ আলী জানান, গত ২০২০-২১ অর্থবছরে মাকড়াইল, শিয়রবর হাট সংলগ্ন এলাকা ও ঘাঘা গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে মধুমতী নদী ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। বর্ষা মৌসুমের আগেই এ কাজ শেষ পর্যায়ে থাকার কথা থাকলেও এখনো ২৫% কাজ হয়েছে কি না সন্দেহ। ফলে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রবল সে াতের কারণে আবারও ভাঙতে শুরু করেছে। ঠিকাদারের গাফিলতি আর নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলার কারণে শেষ সম্বল হারাতে বসেছে এলাকাবাসী। তারা নদী ভাঙন রোধের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানালেও তারা আমলে নিচ্ছে না।
নদী ভাঙনকবলিত ঘাঘা গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি আসলাম হোসেন টুটুল জানান, ৯০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলার কথা থাকলেও ফেলা হয়েছে মাত্র ২০-২১ হাজার ব্যাগ। কাজের সাইডে জিও ব্যাগ রয়েছে অথচ তা ভাঙন পয়েন্টে বসানো হচ্ছে না। ভাঙন অব্যাহত থাকায় গ্রামবাসী চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এলাকাবাসী জরুরি ভিত্তিতে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল কুমার সেন জানান, ভাঙন রোধে নেওয়া প্রকল্পের কাজের মেয়াদ তিন বছর। আর বর্ষা মৌসুমে সাধারণত কাজ করা হয় না। তাছাড়া বর্তমানে ফান্ডও নেই, তাই কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
