চলনবিলে অবাধে শামুক নিধন

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২১, ২১:০০

গোলাম মোস্তফা, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা

চলনবিলে কমছে বন্যার পানি। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বিল থেকে অবাধে ধরা হচ্ছে শামুক। অতিরিক্ত শামুক নিধনের ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, চলনবিলের শামুক হাঁস ও মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। স্থানীয় খামারিদের চাহিদা মিটিয়ে এসব শামুক কুষ্টিয়া, নোয়াখালী, বরিশাল, বাগেরহাট, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খামারিদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।  

চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশের কামারশন গ্রামের লোকমান সরদার, সিদ্দিক, রফিক, রবি ও কুশাবাড়ি গ্রামের ইয়ানুস আলী বলেন, তাদের মতো বিল অঞ্চলের বহু মানুষের সংসার চলে মাছ ধরে। কিন্তু এ বছর ভরা বর্ষায়ও বিলে পানি কম। অল্প পানিতে মাছের দেখা মিলছে না। বাধ্য হয়ে শামুক ধরে বিক্রি করছেন। তারা জানান, ভোর থেকেই বিস্তীর্ণ বিলে শামুক ধরতে বেড়িয়ে পড়েন। দুই থেকে তিন জনের একটি দল মই জাল টেনে দুপুরের মধ্যেই এক নৌকা শামুক সংগ্রহ করেন।

গত শনিবার বিকালে সরজমিনে দেখা গেছে, কামারশন গ্রাম এলাকার তাড়াশ-গুরুদাসপুর মৈত্রী সড়কের পাশে একটি স্থানে শামুক বেচাকেনা চলছে। মানুষজন শ্যালো মেশিনের নৌকায় করে শামুক নিয়ে এসেছেন বেচার জন্য। স্থানীয় শামুকের ব্যাপারী আব্দুল কাদের রিন্টু বলেন, তিনি প্রতিদিন কামারশন ও কুন্দইল ঘাটের ২ থেকে আড়াই হাজার বস্তা শামুক কিনে থাকেন। এ স্থান ছাড়াও হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের ৮ নম্বর সেতুর পাশে ও নাদোসৈয়দপুর খেয়াঘাটসহ বিল অঞ্চলের বেশ কয়েকটি স্থান থেকে শামুক বেচাকেনা হচ্ছে।

তাড়াশ ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মর্জিনা ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিকভাবে শামুক পানি পরিষ্কার করে। যা মাছসহ অধিকাংশ জলজ প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য। তাছাড়া অতিরিক্ত পরিমাণে শামুক নিধন হলে চলনবিলের জমির মাটির ক্যালসিয়াম কমে ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেজবাউল করিম বলেছেন, শামুক নিধন বন্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।