মানুষকে টানে
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, যাদুকাটা নদী ও তার আশপাশ এলাকা— টেকেরঘাট, বারেক টিলা ও টাংগুয়ার হাওরকে নিয়ে তাহিরপুর ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবে অচিরেই বিশ্বে পরিচিতি লাভ করবে বলে আমরা আশা করি
আলম সাব্বির, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা
বিপুল সম্ভাবনা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ডালা সাজিয়ে আছে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব দিগন্তে অবস্থিত ভাটির জনপদ। এই ভাটির জনপদের তাহিরপুরে আছে এক সবুজরঙা নদী। নাম যাদুকাটা। এটি রূপ-সম্পদ-সমৃদ্ধির নদী। সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি।
দেশের এ প্রান্তিক জনপদে প্রকৃতি যেন অকৃপণ হাতে বিলিয়ে দিয়েছে অফুরন্ত সম্পদ, সম্ভাবনা আর অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য। নীল আকাশে সাদা মেঘের খেলা। কখনো জমাট আবার কখনো হালকা বাতাসে দলছুট হয়ে পাগলা ঘোড়ার মতো উত্তরে দাঁড়ানো আকাশে ছোঁয়া বিশাল মেঘালয়ের খাসিয়া পাহাড়ে গিয়ে আছড়ে পড়ছে। তারই মুগ্ধকর দৃশ্য তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী বারেক টিলাসংলগ্ন যাদুকাটা নদীর প্রান্তে ফুটে ওঠে। তখন যে কেউ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সেই রূপের রানি যাদুকাটার ঢেউ খেলানো অঙ্গ-ভঙ্গিমার প্রতি। এই রূপে মুগ্ধ হচ্ছেন হাজার হাজার দর্শনার্থী ও পর্যটক। প্রায় সারা বছরই পর্যটকদের মিলনমেলায় পরিণত হয় যাদুকাটা নদীর তীর। দিন যতই যাচ্ছে যাদুকাটা নদীর প্রতি মানুষের ভালোবাসাও বাড়ছে। তাকে এক নজর দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছে মানুষ।
ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে আসা ১৮টি পাহাড়ি ছড়ার মাধ্যমে বর্ষায় দেখা যায় চোখ জুড়ানো পাহাড়ি ঝরনা। পাহাড়ি নদীর সঙ্গে যুক্ত আছে শাহ আরেফিন আউলিয়ার আস্তানা, হিন্দু সম্প্রদায়ের পনতীর্থ ও ৭০০ ফুট উচ্চতার বারেক টিলার নৈসর্গিক সৌন্দর্য। পাশেই আছে দেশের শিমুলবাগান। এক সঙ্গে একাধিক সৌন্দর্য দেখার মতো স্থান। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া পাহাড়ের বুক চিরে পাহাড়ি ঝরনার পানি মিলিত হয়েছে সীমান্ত নদী যাদুকাটায়। ২৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ যাদুকাটা নদী উপজেলার সবচেয়ে বড় নদী। সারা বছরই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক জীবিকার তাগিদে এ নদী থেকে বালু, পাথর, নুড়িপাথর আহরণ করে। যদিও আইনি জটিলতায় বর্তমানে বন্ধ রয়েছে পাথর উত্তোলন।
ভারতের সারি সারি উঁচু-নিচু মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া পাহাড় ও বারেক টিলার বুকে ঘন সবুজের সমারোহ পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ায়। তার মধ্যে দিঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী গারো সম্প্রদায়ের আধো আধো বাংলা বলার চেষ্টা বেশ আনন্দ দেয় পর্যটকদের। তারা কখনো ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ডিঙি নৌকা, কখনো তীরঘেঁষা রাস্তা দিয়ে পায়ে হেঁটে যাদুকাটার সৌন্দর্য উপভোগ করে।
যাদুকাটা নদীতে বেড়াতে আসা এস এম খোকন, শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান ভুঁইয়াসহ অনেকেই জানান, অপরূপ সৌন্দর্যের রানি যাদুকাটার তুলনা হয় না। এত সুন্দর পাহাড়ি নদী বাংলাদেশে খুব একটা দেখা যায় না। তবে যোগাযোগ ও থাকা-খাওয়ার ভালো ব্যবস্থা না থাকায় বেড়াতে আসা লোকজনের কষ্ট হচ্ছে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, যাদুকাটা নদী ও তার আশপাশ এলাকা—টেকেরঘাট, বারেক টিলা ও টাংগুয়ার হাওরকে নিয়ে তাহিরপুর ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবে অচিরেই বিশ্বে পরিচিতি লাভ করবে বলে আমরা আশা করি।
