বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। এ দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি। স্বাধীনতার ৫০ বছরে এ দেশের জনসংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এদেশের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সম্ভাবনার ব্যাপার এই যে, বাংলাদেশের ৬০ শতাংশ জনগণ তরুণ যাদের বয়স ০-২৫ বছরের মধ্যে। এই তরুণ জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারলে দেশ খুব দ্রুত এগিয়ে যাবে।
জনসংখ্যা বেশি হলে তা সবসময় ক্ষতি বয়ে আনে কথাটা কিন্তু পুরোপুরি সত্য নয়। বাংলাদেশ জনবহুল দেশ হওয়ায় এ দেশে খুব সস্তায় শ্রম পাওয়া যায়। আর এই সস্তা শ্রমকে পুঁজি করে দেশের পোশাক শিল্প ভালো অবস্থান করে নিয়েছে। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। শুধু পোশাক শিল্প নয়, জনসংখ্যা রপ্তানিতেও বাংলাদেশ এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আয় ছিল ২৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। বিদেশে বাংলাদেশি প্রায় ১ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষ কর্মরত আছে। যারা প্রতিনিয়ত নিজেদের শ্রম দিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। এদেশের শতকরা ৭০ ভাগ জনসাধারণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। স্বাধীনতার পর থেকে জনসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেলেও খাদ্য উত্পাদন বেড়েছে অন্তত তিনগুণ। ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টি আমাদের কাছে নতুন হলেও আমাদের দেশের তরুণরা এই সেক্টরে ভালোই দক্ষতা দেখিয়েছে। বিশ্বে আউটসোর্সিং তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ৬ লাখ মানুষ ফ্রিল্যান্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত। প্রতি বছর দেশে এই খাত থেকে ১০ কোটি ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়।
২০১৯ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের শিক্ষার হার ৭৩.৯ শতাংশ। এই বিশাল শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে শুধু চাকরির ওপর নির্ভরশীল না করে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। উন্নত প্রযুক্তিতে পশুপালন, বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিতে চাষাবাদ ইত্যাদি কর্মমুখী শিক্ষা প্রদান ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। বিদেশ থেকে দামি যন্ত্রপাতি আমদানি না করে দেশে যাতে উত্পাদন করা যায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করে দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে দৃষ্টিপাত করতে হবে। আমরা বিদেশে যে শ্রমশক্তি রপ্তানি করি তার বেশির ভাগই অদক্ষ। যার ফলে তারা বাইরে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়। বিদেশ যাবার পূর্বে তাদের ট্রেনিং প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। বিশাল বেকার জনগোষ্ঠীকে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে আউটসোর্সিংয়ের দিকে মনযোগ দিতে হবে। প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় কর্মমুখী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।
সর্বোপরি জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করে এই বিশাল জনসংখ্যাকে দেশের জন্য আশীর্বাদে পরিণত করা সম্ভব। যথাযথ পদক্ষেপই পারে এই বিশাল জনসংখ্যার সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
