বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশ এখন কঠিন একটা সময় পার করছে। জনসাধারণ এখন সচেতন না হলে, ঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে সামনে অবস্থা আরো ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শহরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রতি প্রশাসন বেশ কঠোরভাবে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। অনেক স্বেচ্ছাসেবী বিভিন্নভাবে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছেন। মানুষকে মাস্ক পরিধানে, একটু পর পর সাবান বা সেনিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। বাইরে থেকে বাসায় ঢুকে গোসল করে নেওয়ার পরামর্শও দিচ্ছেন। অনেকেই মাস্ক বিতরণ করছেন। শহরে লকডাউনও চলছে মোটামুটি নিয়মতান্ত্রিকভাবেই, গাড়ির চলাচল খুবই কম। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে লকডাউনের চিত্র বিপরীত, ঠিক তেমনি স্বাস্থ্যবিধি আশঙ্কাজনকভাবে উপেক্ষিত। গ্রামের বাজারগুলোতে দোকানপাট সারা দিন খোলাই থাকে। বাজারে মানুষের প্রচণ্ড ভিড়। বিকেলে খেলার মাঠেও চোখে পড়ার মতো জনসমাগম। অনেক মানুষ ঘর থেকে অকারণে বের হচ্ছে। মাস্ক ছাড়াই ঘোরাফেরা করছে, স্বাস্থ্যবিধির কোনো তোয়াক্কাই করছে না। প্রশাসনের তেমন একটা নজরদারিও নেই, স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগও খুবই ক্ষীণ। গ্রামের মানুষদের মাস্ক পরিধান, সাবান বা সেনিটাইজার ব্যবহারেও সেভাবে কেউ উদ্বুদ্ধ করছে না, যার ফলে করোনা উপসর্গ নিয়ে গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিল চলছে। জ্বর, কাশি হলেও অনেকে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয় না। গ্রামের মানুষের করোনার টেস্টে অনীহা এবং আতঙ্ক। আবার কারো কারো মৃত্যুর পর করোনা পজিটিভ আসে। কিন্তু কোয়ারেন্টাই বা আইসোলেশনে না থাকায়, তার সংস্পর্শে আসা অনেক মানুষ সংক্রমিত হয়ে পড়ে। আর তাদের থেকে একজন থেকে অপরজনের মাধ্যমে প্রান্তিক এলাকায় করোনা ছড়িয়ে পড়াতেই এত কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। করোনা মোকাবিলায় হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে করোনার টিকাদান বাড়াতে প্রাধানমন্ত্রী আহ্বান করছেন। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি না করলে সেটা ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই গ্রামাঞ্চলে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যক্তি উদ্যোগে কাজ করতে হবে। মাস্ক পরিধান, সাবান বা সেনিটাইজার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এবং ভিড় এড়িয়ে চলার কার্যকারিতা সম্পর্কে বোঝাতে হবে। প্রান্তিক অঞ্চলে করোনার হার কমিয়ে আনতে পারলে করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ অবশ্যই সফলতার মুখ দেখতে পারবে।
রাশেদ বিন শফিক
রাজনগর, মৌলভীবাজার
