ডিজিটাল সিস্টেম হ্যাক করে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাত্

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২১, ২১:৪৪

চক্রের তিন জন গ্রেফতার বিপুল পণ্য জব্দ

বিশেষ প্রতিনিধি

সুপার শপ স্বপ্নের ডিজিটাল সিস্টেম হ্যাক করে ১৮ লাখ টাকা মূল্যের ডিজিটাল ভাউচার তৈরি ও জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে হ্যাকার গ্রুপের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। গ্রেফতারকৃতরা হলো, নাসিমুল ইসলাম, রেহানুর হাসান রাশেদ ও রাইসুল ইসলাম।  গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে হ্যাকিংয়ের কাজে ব্যবহূত ছয়টি মোবাইল ফোনসেট, দুটি ল্যাপটপ ও একটি সিপিইউ, ক্রিপ্টোকারেন্সি, নগদ টাকা, ইলেকট্রনিক কার্ড ও ‘স্বপ্ন’ ই-ভাউচারের মাধ্যমে ক্রয়কৃত বিপুল পরিমাণ পণ্য সামগ্রী জব্দ করা হয়। গত শনিবার নওগাঁ, গাইবান্ধা ও রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গতকাল ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সিটিটিসির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানান।

সিটিটিসির প্রধান বলেন, সুপার শপ ‘স্বপ্ন’ তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সারা দেশের ১৮৬টি আউটলেটের সেলস মনিটরিং, ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট, কর্মী ব্যবস্থাপনা, আর্থিক লেনদেনের হিসাব, ডিজিটাল ভাউচার ম্যানেজমেন্টসহ সব ব্যাবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। স্বপ্নের ডিজিটাল সিস্টেমটি তাই অ্যাডভান্স সাইবার সিকিউরিটি প্রটোকল অনুযায়ী অত্যন্ত সুরক্ষিত করে তৈরি করা হয়েছিল। এর শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ব্রিচ করে বিপুল অঙ্কের অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক ডিজিটাল ভাউচার জেনারেট করে বিক্রি করা হয়। এ বিষয়টি গত মাসের মাঝামাঝিতে ‘স্বপ্ন’ কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরবর্তীকালে তারা বিষয়টি ডিএমপির সিটি সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগকে অবহিত করে। পরে এ বিষয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। তিনি বলেন, সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের সাইবার ইনভেস্টিগেটরদের একটি চৌকস টিম ‘স্বপ্ন’ সুপার শপের ডিজিটাল সিস্টেমের ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও রিভার্স এনালাইসিসসহ উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে হ্যাকার চক্রটির ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট শনাক্ত করে।

আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেফতারকৃতরা ‘স্বপ্ন’-এর ডিজিটাল সিস্টেম হ্যাক করে ১৮ লাখ টাকা মূল্যের ডিজিটাল ভাউচার তৈরি করে ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে শতকরা ২৫ ভাগ ছাড়ে কয়েকটি ই-কমার্স ইউজারদের কাছে বিক্রি করে। এভাবে তারা জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্টে জমা করে। তাদের ডিজিটাল ডিভাইস থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়।

এ ছাড়াও তারা প্রথমসারির বাংলাদেশি এয়ারলাইনস, প্রসিদ্ধ বাস কোম্পানি, ইলেকট্রনিক গেজেট, চেইন আউটলেটসহ স্বনামধন্য অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাত্ করে। এমনকি সুচতুর এই হ্যাকারদের কাছে সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে একসেস রয়েছে। তারা বিভিন্ন ডার্ক ওয়েব মার্কেট থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সির বিনিময়ে লগ ইন ক্রিডেনশিয়াল ক্রয় করে, যা ডিজিটাল ভাউচার তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহূত হয় বলে পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান। গ্রেফতারকৃতদের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দায়েরকৃত মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে  পাঠানো হয়েছে।