বার্সেলোনা থেকে মেসির কান্নাভেজা বিদায়

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২১, ২২:৩৭

ফুটবল দুনিয়ায় এমন বিদায় আর দেখা গেছে কি না, কেউ জানে না। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসির বিদায় হলো চোখের জলে। বার্সেলোনা ছেড়ে যাওয়ার আগে ক্লাবের ন্যু ক্যাম্পে আয়োজিত মেসির বিদায়ি সংবাদ সম্মেলনে মেসি কাঁদলেন। সাফল্যের মালা গেঁথে বার্সার যে পতাকাটি উড়িয়ে ছিলেন মেসি সেই পতাকা ভিজল তারই চোখের জলে। তার প্রিয় ক্লাব ছাড়তে গিয়ে মেসি অঝোরে কেঁদেছেন।

মেসি বার্সেলোনা ছাড়েননি। বার্সেলোনা মেসিকে ছেড়ে দিয়েছে। বার্সায় থাকার জন্য মেসি প্রস্তাব অনুযায়ী অর্ধেক বেতনে খেলতে রাজি হয়েছিলেন। কোপা আমেরিকা জয় করার আগেই সব আলোচনা সম্পন্ন ছিল। কোপায় জয় পাবার পর বেতন পুনর্নির্ধারণে মেসি বেঁকে বসতে পারতেন। সেটা করেননি তিনি। দেশে ফিরে আজেন্টাইনদের হাতে ট্রফি তুলে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গিয়ে ছুটি কাটিয়ে স্পেনে ফিরেছিলেন বার্সার সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করবেন। চুক্তি স্বাক্ষরের টেবিলে মেসির বাবা জর্জ মেসি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে গিয়ে মেসির বাবার চোখ কপালে উঠে গেছে। চুক্তিপত্রে উল্লেখ থাকার কথা অর্ধেক বেতন তথা অর্থের সংখ্যাটা। সেটা দেখতে পাননি মেসির বাবা। বার্সার সভাপতি হুয়ান লাপার্তো নতুন প্রস্তাব তুলে ধরেন মেসির বাবার কাছে। ৭০ পারসেন্ট কম বেতনে খেলার নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়। আর তাতেই আগুন হয়ে যান মেসির বাবা। কী কথা ছিল, আর কী হতে যাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে সেই সভা ভেঙে যায়। তারপরই সবার আগে বার্সেলোনার সভাপতি লাপার্তো ঘোষণা দেন মেসি বার্সায় নেই। ফুটবল দুনিয়ায় খবর ছড়িয়ে যায়। মেসি ভক্তরা ভেঙে পড়েন তাদের প্রিয় খেলোয়াড়ের বিদায়ের কথা শুনে। খুশি হয় অনেক ক্লাব যারা মেসিকে ঘরে তুলতে মুখিয়ে ছিলেন। যতটাকা লাগুক মেসিকে তাদের চা-ই, চাই।

বার্সেলোনা হতে মেসির এমন বিদায় অকল্পনীয়। ক্লাব ফুটবলে এই মেসিকে জন্ম দিয়েছিল বার্সেলোনা। আর সেই বার্সেলোনা এভাবে মেসিকে ঘরহীন করবে সেটা কারো কল্পনায় ছিল না। বার্সার সঙ্গে মেসির আত্মার বন্ধন। বার্সাতে দুই হাত ভরে সাফল্য এনে দিয়েছেন মেসি। মেসির পায়ের জাদুর কারণে বার্সালোনা ভুরিভুরি স্পন্সর পেয়েছে। বার্সার অর্থ ভাণ্ডার মোটা তাজা হয়েছে মেসিকে দিয়ে। মেসি ফুটবলের সুনিপুণ কারিগর। তার নৈপুণ্য ফুটবল দুনিয়াকে মোহিত করে রেখেছে গত ২১টি বছর। মেসির কারণে বার্সার দরজায় টাকার বস্তা নিয়ে  স্পন্সররা লাইন দিয়েছিল। বার্সা আজ যতটা আলোকিত তার পুরোটাই মেসির কৃতিত্ব। বার্সেলোনার বাইরে যেসব ফুটবল দর্শক আছেন তারাও মেসির জন্য ন্যু ক্যাম্পে আগাম টিকিট বুকিং দিতেন। খেলার দিনে টিভির দর্শক রিমোট দখল করতেন। সবই মেসিকে কেন্দ্র করে।

প্রাণের বার্সা ছাড়তে গিয়ে মেসি অশ্রুসিক্ত হলেন। কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে বার বার টিস্যুতে চোখের পানি মুছেছেন। মেসি একটা কথা পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, ‘আমি আমার পক্ষ থেকে বলতে পারি আমি কখনো বার্সার কারো সঙ্গে কৌশল খাটাইনি। চালাকি করিনি।’ মেসির এই কথায় স্পষ্টতই এক ক্ষোভের আভাস পাওয়া যায়। অর্ধেক বেতনে রাজি হয়েও আনুষ্ঠানিক চুক্তির সময় কেন সেটা পরিবর্তন হলো। কেন নতুন প্রস্তাব এনে ৭০ পারসেন্ট বেতন কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হলো। সংবাদ সম্মেলনে মেসি এসব কথা সরাসরি উল্লেখ না করলেও বোঝা যায়, তিনি কি বলতে চাইছেন। বার্সা ছাড়ার জন্য কার দিকে আঙুল তুলছেন। মেসি বলেছেন, ‘আমি বার্সেলোনায় থাকায় সন্তুষ্ট ছিলাম। এটাই আমার বাড়ি। আমাদের বাড়ি। বার্সেলোনায় থাকব বলে মন ঠিক করেছিলাম। এটাই ছিল আমার পরিকল্পনা।’

 বার্সেলোনার সভাপতি লাপার্তোকে ইঙ্গিত করে মেসি বললেন, শেষ মুহূর্তে উনি বিষয়টা (চুক্তি) কীভাবে ব্যাখ্যা করলেন। এখন বাধ্য হয়ে আমাকে গুডবাই বলতে হচ্ছে।’ চোখের পানি মুছে মেসি বললেন, ‘বার্সাকে বিদায় বলতে খুব কষ্ট হচ্ছে।’