আফগানিস্তানের কুন্দুজ শহরও তালেবানের দখলে

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২১, ০০:১৬

আফগানিস্তানে তালেবানের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। তিন দিনের ব্যবধানে তারা তিনটি প্রাদেশিক রাজধানী দখল করেছে। সর্বশেষ সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের পর আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর কুন্দুজ দখল করেছে তারা। একজন স্থানীয় কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, কেবল কুন্দুজের বিমানবন্দর ছাড়া সব কিছু এখন তালেবানের দখলে চলে গেছে। শহরে এখন চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিভিন্ন ভবনে এবং দোকানপাটে আগুন জ্বলছে।

তবে আফগান সরকারের পক্ষ থেকেও দুই শতাধিক তালেবান বিদ্রোহী হত্যার দাবি করা হয়েছে। যদিও নিরপেক্ষভাবে এটির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি কোনো পক্ষ।

বিবিসির খবরে  বলা হয়েছে, সব মিলিয়ে আফগানিস্তানের চারটি প্রাদেশিক রাজধানী এখন তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এর মধ্যে তালেবানের জন্য কুন্দুজই সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ বিজয়। তারা তীব্র লড়াই করে আরেকটি উত্তরাঞ্চলীয় শহর সার-ই-পুলও দখল করে নিয়েছে। তবে আফগান কর্মকর্তারা দাবি করছেন, তাদের বাহিনী এখনো ঐ শহরে আছে এবং লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রায় দুই দশক পর আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশ তাদের সেনা প্রত্যাহার শুরু করার পর সেখানে আবার তীব্র লড়াই শুরু হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তালেবান বিদ্রোহীরা খুবই দ্রুত বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নিয়েছে। এখন তারা বড় বড় নগরী এবং শহরকে টার্গেট করেছে। আফগানিস্তানের পশ্চিমে হেরাত এবং    দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহার এবং লস্কর গাহেও তীব্র লড়াই চলছে। আফগানিস্তানে এ বছরের লড়াইয়ে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, কুন্দুজ হচ্ছে আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে যাওয়ার প্রধান প্রবেশপথ। এটির অবস্থান কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাজধানী কাবুল এবং উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নগরীর সঙ্গে মহাসড়কের মাধ্যমে সরাসরি সংযোগ আছে কুন্দুজের। তাজিকিস্তানের সঙ্গে অভিন্ন সীমান্তও আছে এই প্রদেশের। এই সীমান্তপথ দিয়েই আফগানিস্তানে উত্পাদিত আফিম এবং হেরোইন মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে পাচার করা হয়, সেখান থেকে যায় ইউরোপে। কুন্দুজ নিয়ন্ত্রণ করার মানে হচ্ছে এই অঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাদক চোরাচালানের রুট নিয়ন্ত্রণ করা। তালেবানের কাছে কুন্দুজের এই বিজয়ের একটি প্রতীকী তাত্পর্যও আছে। ২০০১ সালের আগে এটি ছিল উত্তরাঞ্চলে তাদের অন্যতম ঘাঁটি। তালেবান ২০১৫ সালে এবং আবার ২০১৬ সালেও এই কুন্দুজ দখল করে নিয়েছিল, কিন্তু বেশি দিন ধরে রাখতে পারেনি।

দুই শতাধিক বিদ্রোহী ‘নিহত’: এদিকে তালেবানের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে তাদের অবস্থানগুলোতে বি-৫২ বোমারু বিমান দিয়ে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একটি বাহিনী। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এমন দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছে, শনিবার রাতে তালেবান অবস্থানগুলোতে চালানো হামলায় দুই শতাধিক বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ফাওয়াদ আমান টুইট করে বলেন, সেবারঘানে তালেবান যোদ্ধাদের গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে চালানো হামলায় তালেবানের বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ ও যানবাহনও ধ্বংস হয়েছে।