সিটি করপোরেশনের অবহেলায় বাড়ছে ডেঙ্গু!

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২১, ২২:৪১

প্রতিনিই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। গত বছরের তুলনায় জুন-জুলাই মাসে ডেঙ্গু বেড়েছে প্রায় ৬০ গুণ। বছর জুড়ে দুই সিটি করপোরেশনের মশক দমনে ছিল না তেমন তত্পরতা। কীটতত্ত্ববিদরা বারবার সতর্ক করলেও তারা  তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এ বছর কিউলেক্স মশাও বেড়েছে কয়েক গুণ। আর ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হতেই এডিস মশার বিস্তার ছাড়িয়ে গেছে আগের বছরের সব রেকর্ড।

মূলত জুন থেকে সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুর মৌসুম। গত বছরের জুনে ২০ জন, জুলাইয়ে ২৩ জন, আগস্টে ৬৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়। আর এবারের আগস্টেই গড়ে প্রতি দিন আক্রান্ত হচ্ছেন আড়াই শ জন করে। চলতি বছরের জুনে ২৭২ জন, জুলাইয়ে ২ হাজার ২৮৬ জন আক্রান্ত হয়েছে। সে হিসেবে গত বছরের তুলনায় এ বছরে জুন-জুলাইয়ে আক্রান্তের হার বেড়েছে ৬০ গুণ। মশা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে সিটি করপোরেশনের অবহেলা ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসকেই দায়ী করছেন কীটতত্ত্ববিদরা। তারা বলছেন, বছর জুড়ে যেখানে মশকনিধন চলার কথা, সেখানে দুই সিটি করপোরেশনের সেই তত্পরতা দেখা যায়নি।

অন্য দিকে ডিএসসিসির মশার ওষুধ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন খোদ কাউন্সিলররাই। গত বছরের শুরু থেকেই উড়ন্ত মশা মারার ওষুধ ছিটানো বন্ধ থাকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি)। সংস্থাটির ভান্ডার বিভাগে আমদানি করা ওষুধ থাকলেও সেটি ফরমুলেশন (মিক্সিং) করতে না পারায় এ সমস্যা দেখা দেয়। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের পূর্বাভাস দেওয়া হলেও ডিএসসিসিতে মশককর্মী কমিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা যায়। এটি মশক নিধনে কম গুরুত্ব দেওয়ার প্রকাশ বলে জানান কীটতত্ত্ববিদরা। এদিকে মশক নিধনকর্মীদের বিরুদ্ধেও ঠিকমতো ওষুধ না ছিটানো ও ওষুধ চুরির অভিযোগ ওঠে। গত ২১ জুন সেটারও প্রমাণ পায় সংস্থাটি। উড়ন্ত মশা মারার ওষুধ না ছিটিয়ে তা দোকানে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে দক্ষিণ সিটির চার মশক নিধন কর্মীকে কর্মচ্যুত করা হয়। তারা হলেন ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের উজ্জ্বল সিদ্দিকী, সুজন মিয়া, হাফিজুল ইসলাম ও জুয়েল মিয়া। এ ঘটনায় করপোরেশনের মশক সুপারভাইজার মো. মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে কীটনাশক ক্রয় করা দোকান মালিক আবদুল মজিদ সিকদারের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলাও করেন। অন্য দিকে উত্তর সিটিও নামমাত্র অভিযান চালিয়েছে। তবে উড়ন্ত মশা মারার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশককর্মীদের সারা বছরেও দেখা যায়নি বলে অভিযোগ নাগরিকদের।

সূত্র জানায়, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর শুধু ফেব্রুয়ারিতেই কিউল্যাক্স মশা বেড়েছে চার গুণ। তখনও তথ্যটি আমলে নেয়নি দুই সিটি করপোরেশন। এর পরে এডিস বাড়ায় হু হু করে বাড়তে থাকে ডেঙ্গু। কীটতত্ত্ববিদরা জুন থেকে ডেঙ্গু বাড়ার পূর্বাভাস দিলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, জুনের শুরু থেকে আমরা বলে আসছি ডেঙ্গু বাড়বে। তখন থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যে কারণে এখন সেটি বাস্তবে রূপ নিয়েছে। তিনি বলেন, এখন বাড়ির আঙিনা নাগরিকদেরই পরিষ্কার রাখতে হবে। এছাড়া সিটি করপোরেশন খোলা জায়গা ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে লার্ভা জমেছে কি না তা তদারকি করতে পারে। সবার উচিত হবে দায়িত্ব নিয়ে এখন মশার লার্ভা জন্ম নেয় এমন পানি নিজ দায়িত্বে ফেলে দেওয়া। এমন না হলে সিটি করপোরেশনের অভিযানে তেমন সুফল আসবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ বলেন, ‘নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষও চালু করা হয়েছে। প্রতিটি অঞ্চলে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। কোথাও তথ্য পাওয়া গেলে সেখানে কাউন্সিলরের নেতৃত্বে টিম পাঠানো হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে উত্তর সিটি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন অভিযানের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি। মানুষকে সচেতন করে আসছি। নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছি প্রতি শনিবার তারা যেন সকালে অন্তত ১০ মিনিট সময় নিয়ে বাসার জলাবদ্ধতা ও অপরিচ্ছন্ন স্থানগুলো পরিষ্কার করেন।