ফল : গোলাপজাম

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২১, ২০:১৪

গোলাপজাম মাঝারি আকৃতির চিরসবুজ গাছ। বৈজ্ঞানিক নাম Syzygium jambos, এটি Myrtaceae পরিবারের বৃক্ষ। ভারত ও মালয়েশিয়া আদি নিবাস। এখন বাংলাদেশ, ভারত, ফিলিপাইন, চীন, ভিয়েতনাম প্রভৃতি দেশে দেখা যায়। কাণ্ড মসৃণ ও ধূসর বর্ণের। পাতা একক, জোড়ায় জোড়ায় বিপরীত দিকে বিন্যস্ত। পুষ্পবিন্যাস নিয়ত, ফুল উভলিঙ্গিক, অধোগর্ভ, পুষ্পদণ্ড লম্বা। ফল ফিকে হলুদ বা গোলাপি আভা যুক্ত হালকা সবুজ বর্ণের হয়ে থাকে। ফল বেরি, আকৃতি প্রায় গোলাকার। ফলে একটি বা দুটি বীজ থাকে।  

গোলাপজাম আমাদের দেশের একটি অপ্রচলিত ফল। মিষ্টি স্বাদ, রসালো এবং গোলাপ ফুলের সুগন্ধযুক্ত। এই ফলে প্রায় সব ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে। মাঝারি আকারের এই ফলগাছ ৫০-৬০ বছর বাঁচে। গাছ লাগানোর দু-তিন বছর পর থেকেই ফল সংগ্রহ করা যায়। গোলাপজাম গাছে মাঘ-ফাল্গুন মাসে ফুল আসে এবং বৈশাখ থেকে শ্রাবণ মাসের মধ্যে ফল পাকে।

বাড়ির আঙিনা বা পাহাড়ি এলাকায় একসময় দেখা যেত এই ফল। এখন খুব একটা চোখে পড়ে না। গোলাপজাম পুষ্টিকর ফল হলেও এটি এখন বনবাদাড় থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। আবার নার্সারিতেও এ ফলের গাছের চারা মেলে খুব কম। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট, মাধবপুর ও বাহুবল উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় এক সময় প্রচুর গোলাপজাম উত্পাদন হতো। বাজারেও মিলত এ ফল। এখন কালেভদ্রে দেখা  মেলে এই ফলের। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের রামগঞ্জ, খাগড়াছড়ি ও জয়দেবপুর স্টেশনের জার্মপ্লাজম সেন্টারে গোলাপজামের গাছ আছে। বীজ ও কলমের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি হয়।

গোলাপজাম কাঁচা অবস্থায় সবুজাভ এবং কিছুটা শক্ত হলেও পাকলে নরম ও সাদাটে হয়। ভেতরে দুটি বীজ থাকে, যা থেকে বংশ বিস্তার হয়। টক মিষ্টি স্বাদের এই ফলে প্রচুর ভিটামিন সি ছাড়াও রয়েছে আমিষ, স্টার্চ, চর্বি, খনিজ লবণ ও  ভিটামিন বি ১, বি ২, ক্যারোটিন এবং ক্যালসিয়াম। একটি গোলাপজামে প্রায় ৪০ কিলো ক্যালরি খাদ্যশক্তি থাকে। পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, বমিভাব দূর করতে এটি কার্যকর। এছাড়া গাছের ছাল ও পাতা ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী।

চয়ন বিকাশ ভদ্র