তানভীর তানিম
একটা সময় ছবি সম্পাদনা বলতে মানুষ কম্পিউটার নির্ভর কোনো কাজকে বুঝত। প্রযুক্তির উত্কর্ষতা মানুষের সেই ধারণাকে পুরোপুরি ভুল প্রমাণিত করেছে। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে মোবাইল ফোন দিয়েই করা যায় নজরকাড়া যত এডিট। ফুটিয়ে তোলা যায় ছবির মধ্যে থাকা মৌলিক সৌন্দর্যকে। তবে ছবি সম্পাদনার অ্যাপসের সহজলভ্যতা এক্ষেত্রে যেন শাঁখের করাতের চাইতেও একটু বেশি ধারালো। বর্তমানে প্লে স্টোরেই রয়েছে কয়েক লক্ষ অ্যাপ। ফলে পছন্দের অ্যাপটি নির্বাচন করতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের প্রায়ই হিমশিম খেতে হয়। তাদের এসব দ্বিধা-দ্বন্ধের অবসান ঘটাতেই সময়ের সেরা কিছু ছবি সম্পাদনার অ্যাপসগুলোকে নিয়ে আজকের আলোচনা।
পিক্সলার : প্লে স্টোর থেকে ৫ কোটিরও বেশিবার ডাউনলোড হওয়া অ্যাপটি হলো পিক্সলার। ছবি সম্পাদনার জন্য দুর্দান্ত এই অ্যাপটির বর্তমান রেটিং ৪.৩। মাত্র ২৭ মেগাবাইটের পিক্সলার যেন অসংখ্য টুলস ও ইফেক্টের সমাহার। যা ব্যবহারকারীর সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, ব্যবহারকারী ‘অটো-ফিক্স’ নামক মাত্র একটি ফিচার ব্যবহার করেই খুব সহজে রঙের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে। আর সর্বশেষ নিজের সম্পাদনা করা ফটো পিক্সেলার ব্যবহারকারীদের সাথে শেয়ার করার সুযোগ তো থাকছেই।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য:n এনহান্সমেন্ট টুল n অটো ফিক্সিং সমর্থিত n অসাধারণ কোলাজ মেকার অ্যাপ
ফটো ল্যাব :ফটো ল্যাব হাল আমলের জনপ্রিয় একটি ছবি সম্পাদনার অ্যাপ। গুগল প্লে স্টোরে ৪.৪ রেটিংয়ের অধিকারী এই অ্যাপটিকে ১০০ কোটিরও বেশিবার ডাউনলোড করা হয়েছে। মাত্র ৫৪ মেগাবাইট সাইজের ফটো ল্যাবে ৯০০টি পর্যন্ত ইফেক্ট ব্যবহার করা সম্ভব। সাথে রয়েছে ডেপথ ইফেক্ট, গ্লাইচ আর্ট এবং স্মার্ট টাচ-আপ এর মতো স্মার্ট সব ফিল্টারও। যা ব্যবহার করে যেকোনো ছবিকে শৈল্পিক রূপ দেয়া সম্ভব। এছাড়াও চেহারা অদলবদল করা থেকে শুরু করে নিজের বা অন্য কারোর ছবিকে জলদুস্য, নভোচারী বা অন্য কোনো চরিত্রে রূপান্তরিত করা ফটোল্যাবের কাছে একদম ডালভাত।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য :n অ্যাপটিতে থাকছে ৯০০টিরও বেশি ইফেক্ট n ওয়ান টাচ ফটো এডিট সমর্থিত n থাকছে অ্যাডভান্স ফেস ডিটেকশন অ্যালগোরিদম
অ্যাডোবি লাইটরুম : অ্যাডোবি লাইটরুম হলো গুগল প্লে স্টোরের এডিটর চয়েস লিস্টে থাকা একটি অ্যাপ। এ পর্যন্ত ১০০ মিলিয়নের বেশিবার এটি ডাউনলোড হয়েছে। ৪.৩ রেটিং এর অ্যাডোবি লাইটরুমের সাইজ তুলনামূলক একটু বেশি, প্রায় ৭৯ মেগাবাইট। এই অ্যাপটির অন্যতম সুবিধা হলো আপনি এর যেকোনো ফিচারের খুটিনাটি পরখ করে দেখতে পারবেন। তবে এর মূল আকর্ষণ ব্রাশ ফিচার। যেটি ব্যবহার করে চোখের পলকে ছবির মূল বিষয়কে নান্দনিকভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়। পাশাপাশি কম আলোতে তোলা ছবির ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা যেমন গ্রেইন, বিবর্ণতা প্রভৃতির সামঞ্জস্য করে ছবিকে নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করতেও এর জুড়ি নেই। যারা নিয়মিত ছবি সম্পাদনার সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের জন্য অ্যাডোবি লাইটরুম হতে পারে সেরা পছন্দ।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য : n অ্যাডভান্সড ক্যামেরা কন্ট্রোল n বেসিক এডিটিং টুলস n প্রি-মেইড রিসোর্স n প্রিমিয়াম কালার কন্ট্রোল n এডভান্সড ফটো শেয়ারিং
প্রিজমা : মাত্র ১২ মেগাবাইট সাইজের প্রিজমা অ্যাপটি এ তালিকার সব থেকে ছোট অ্যাপ। ব্যবহারবিধি অত্যন্ত সহজ হওয়ায় নতুন ফটো এডিটররাই এর মূল ব্যবহারকারী। প্রিজমার আর্ট ফিল্টার লাইব্রেরিতে আছে ৩০০টিরও বেশি আর্ট স্টাইল। এছাড়া এটি প্রতিদিনই একটি করে নতুন আর্ট ফিল্টার প্রকাশ করে থাকে। ৪.৫ রেটিং এ থাকা অ্যাপটি সর্বমোট ৫০ মিলিয়নের অধিকবার ডাউনলোড করা হয়েছে।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য :n ৩০০টির অধিক আর্ট স্টাইল
n সম্পাদনা করা ছবি প্রিজমা কমিউনিটির সঙ্গে শেয়ারের সুযোগ n প্রতিদিন নতুন নতুন আর্ট ফিল্টার যুক্ত হওয়া
স্ন্যাপসিড : ৪.৫ রেটিংসহ ১০০ মিলিয়নেরও বেশি ডাউনলোড হওয়া অ্যাপ স্ন্যাপসিড। এটি আকারে মাত্র ২৪ মেগাবাইট। গুগল প্লে স্টোরের এডিটর চয়েস লিস্টে থাকা অ্যাপসগুলোর মধ্যে স্ন্যাপসিডও একটি। স্ন্যাপসিডের বিশেষত্ব হলো যেকোনো একটা ফিচার নির্বাচন করে আপনি ফটোর নির্দিষ্ট জায়গাতে ফোকাস করতে পারবেন। তবে এর এক-টাচ ফিল্টারগুলি সবচেয়ে বেশি ব্যবহারকারী-বান্ধব। অন্যান্য অ্যাপের মতো এটিরও ফিল্টার সংখ্যা অসংখ্য।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য :n ২৯ রকমের টুল এবং ফিল্টার, হিলিং, ব্রাশ, এইচডিআর n জেপিজি (Jpg), পিএনজি (Png) এবং র (Raw) ফাইল সাপোর্ট n সিলেক্টিভ ব্রাশ টুল n পারস্পেক্টিভ এডিট n কার্ভ টুল n ডাবল এক্সপোজার n ফেস এডিটিং
