‘আমরা গল্প বলার ভালো একটি মাধ্যম পেয়েছি’

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২১, ২০:১৭

নিজের প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘তকদীর’ নিয়ে দুই বাংলায় দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছেন নির্মাতা সৈয়দ আহমেদ শাওকী। চ্যালেঞ্জ বেড়ে যাওয়ায় নতুন কাজেও অগ্রসর হচ্ছেন হিসেব করেই। নিজের পরবর্তী পরিকল্পনাসহ ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন

এ এম রুবেল

নতুন কাজের ব্যস্ততা প্রসঙ্গে জানতে চাই—

আমার ‘তকদীর’ প্রশংসিত হওয়ার পর নতুন কাজের পরিকল্পনা নিয়ে একটু ধীরেই এগুচ্ছিলাম। কারণ একটা কাজ জনপ্রিয়তা পেলে দর্শক প্রত্যাশার পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। সেই জায়গা থেকে ভিন্নধর্মী একটি গল্প নিয়ে ‘ঊনলৌকিক’ শিরোনামের একটি ওয়েব সিরিজ আমরা করলাম। এছাড়া নতুন ওয়েব সিরিজের গল্প প্রস্তুত করছি। শিগগিরই হয়তো নতুন কাজের খবর দিতে পারবো।

যে ওয়েব কন্টেন্টগুলো সিরিজ আকারে প্রকাশ হচ্ছে সেগুলো গল্পের ধারাবাহিকতা কতটা রক্ষা করতে পারবে বলে মনে করছেন?

দেখুন, এই মাধ্যমটি সবে শুরু হয়েছে। এখনই টিভি ধারাবাহিকের সঙ্গে এর তুলনা করা যাবে না। তাছাড়া টিভি নাটকের জন্য নির্মাতাদের এককভাবে দায়ীও করা যাবে না। প্রতিদিনই ওটিটির মার্কেট তৈরি হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। আমার মনে হয় তুলনা না করে দুটি মাধ্যমকে এক করেই দেখা উচিত।

বিদেশি প্লাটফর্ম দিয়ে যাত্রা শুরুর কারণ কী ছিল?

না, তেমন কোনো কারণ ছিল না। তাছাড়া প্রথম কাজ কিন্তু বিদেশি প্লাটফর্মে করিনি, ইউটিউব দিয়ে যাত্রা শুরু করেছি। এমনও না যে দেশের প্লাটফর্মে কাজ পাইনি বলে বাইরের প্লাটফর্মে কাজ করেছি। হটাত্ করেই হইহচই থেকে আমার কাছে গল্প চাওয়া হয়। কোনোরকম পরিকল্পনা বা প্রস্তুতি ছাড়া গল্প জমা দেই। কিন্তু শুরুতে তারা সেটা বাতিলও করে। পরে আমি এবং আমার কো-ক্রিয়েটর অনিম ডেভেলপ করে কাজটি করেছি।

আপনার সফলতা দেশীয় নির্মাতাদের বিদেশি প্লাটফর্মে কাজের পথ তৈরি করেছে কি-না?

এই মাধ্যমটিকে কিন্তু এখন আর দেশের গন্ডিতে আবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। সব প্লাটফর্মই আন্তর্জাতিক হয়ে গেছে। কারণ তাদের প্লাটফর্মটি যেমন সারাবিশ্ব দেখা যাচ্ছে, আমাদের প্লাটফর্মটিও সবাই দেখতে পাচ্ছে। এই মাধ্যমটির লক্ষ্যই সারাবিশ্বের দর্শকের কাছে পৌঁছানো। বলতে পারেন, আমরা গল্প বলার ভালো একটি মাধ্যম পেয়েছি।

ওটিটিকে কেউ আর্শীবাদ, কেউ সিনেমা শিল্প ধ্বংসের কারণ বলছেন। আপনি এ নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?

আমি যখন ‘তকদীর’ লিখছিলাম তখন কিছু কাজ নিয়ে সমালোচনা চলছিল। এরপর বেশকিছু প্রশংসিত কাজ কিন্তু আমরা এরইমধ্যে দেখেছি। দু-একটি কন্টেন্ট দিয়ে ওটিটিকে বিচার করা ঠিক হবে না। একটি মাধ্যম কখনোই সংস্কৃতি ধ্বংস করতে পারে না। আমাদের সংস্কৃতি অত সস্ত নয় যে, একটি কন্টেন্ট দিয়েই ধ্বংস করা যাবে।

দেশের ওটিটি প্লাটফর্মগুলো এখনো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে না পারছেন না কেন?

আমার মনে হয় জায়গা তৈরি করতে পারছে। তবে আমাদের গল্প বা নির্মাণে দর্শক চাহিদা এখনো পূরণ করতে পারছি না। কারণ হটাত্ করেই মাধ্যমটির যাত্রা শুরু হওয়ায় কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। তবে শিগগিরই এই অবস্থা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারবো।

দেশের প্রেক্ষাপটে ওটিটি মাধ্যমে নির্মাতারা কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে বলে মনে করেন?

আমি যে দুটি মাধ্যমে কাজ করেছি সেখানে পুরো স্বাধীনতা পেয়েছিলাম। এই জায়গা আসলে নিজেকে তৈরি করে নিতে হয়। আমি যদি প্রযোজকদের আমার লক্ষ্য বোঝাতে পারি, তাদের আস্থার জায়গা তৈরি করতে পারি তাহলে তারা স্বাধীনতা অবশ্যই দেবেন। বলতে পারেন, আস্থা অর্জনের ওপর নির্মাতার স্বাধীনতা নির্ভর করে।

ওয়েব সিরিজের পাশাপাশি আপনি বেশ কয়েকটি শর্টফিল্মও নির্মাণ করেছেন। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে কবে দেখা যাবে?

আমি এখনো বড়পর্দার জন্য প্রস্তুত নই। তবে গল্প লিখেছি। যেহেতু আমার কোনো কাজই পরিকল্পনা করে হয়নি, তাই যেকোনো সময় চলচ্চিত্র নির্মাণের খবরে আসতে পারি। আমি দেখতে চাই চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পারি কি-না!

কিন্তু চলচ্চিত্রের এই সংকটে যাত্রা শুরু ক্যারিয়ারের জন্য ঝুঁকির বলে মনে করছেন না?

হ্যাঁ, এটা সত্য। তবে সিরিজ তৈরি সময় তো ভাবিনি এটা সফল হবে। আমি সবসময় চ্যালেঞ্জ নিতে চাই।