মাধব রায়, কথাসাহিত্যিক, সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)
ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট
নীলকান্তবাবু অফিস থেকে এলে কমলা বললেন, আজকে খুবই খারাপ একটা দিন। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান স্যার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
নীলকান্তবাবু বললেন, হ্যাঁ, খুব দুঃখের একটা সংবাদ। মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রীসহ দেশের বিশিষ্টজন তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছে। বাংলাদেশের এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ বাংলাদেশের মানুষের সকল ধরনের ন্যায়ভিত্তিক সংগ্রামে তিনি পাশে থেকে অবদান রেখেছেন। তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতিও ছিলেন।
কমলা বললেন, বাংলাদেশে এখন আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ হাজার ছাড়িয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ২৬৯ জনের। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট বিভাগের অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেছেন, এখন বাংলাদেশে করোনা আক্রমণের পিকটাইম চলছে। এর মধ্যে অনেক মানুষ কিন্তু অন্যকে সহযোগিতা করছে। ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। ‘আপনি ঘরে থাকুন, আমরা আসছি আপনার দরজায়’ এমন স্লোগানে ছয় বন্ধু মানুষকে রাতের আঁঁধারে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন।
হ্যাঁ, বললেন নীলকান্তবাবু। সংস্কৃতিকর্মীরা ‘কলের গাড়ি’ নামে একটা ব্যবস্থা চালু করেছে। মোবাইল নম্বর দেয়া আছে। ফোন করলেই ঠিকানা অনুযায়ী মানুষের বাসায় বাসায় খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন তাঁরা।
হ্যাঁ টিভিতেও দেখিয়েছে তাদের এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগ।
এদিকে বাচ্চা-কাচ্চাদের স্কুল বন্ধ হয়ে আছে। নীলকান্তবাবুর অফিসও বন্ধ ছিল, সীমিত আকারে খুলেছে। বাচ্চা-কাচ্চারা সারাদিন ঘরেই কাটাচ্ছে। পড়াশুনা আর কত সময় করা যায়। বিন্দু তার চুম্বকের টুকরাটা হারিয়ে ফেলেছিল। বই ঘাঁটাঘাটি করতে গিয়ে খুঁজে পেয়েছে। এটি নিয়ে সে অনেকটা সময় কাটাচ্ছে। নীলকান্তবাবু ফ্রেশ হয়ে আসার পর চুম্বকটা নিয়ে এলো বিন্দু। বলল-বাবা, চুম্বক দিয়ে নাকি বিদ্যুত্ হয়?
হ্যাঁ, চুম্বক দিয়ে বিদ্যুত্ হয়, আবার বিদ্যুত্ দিয়েও চুম্বক হয়।
বিদ্যুত্ দিয়ে চুম্বক হয়, তা তো আমরা আগেই জানতাম। আকাশ, চন্দ্রা, সীমা, অণু, রেখা সবাই চলে এসেছে।
আকাশ বলছে আমাদের কলিংবেলএ বিদ্যুত্ দিয়ে চুম্বক হচ্ছে, বাটিকে আঘাত করে শব্দ উত্পন্ন করছে।
কিন্তু বিজ্ঞানী ওয়েরস্টেড ১৮২০ সালে একটি পরীক্ষার মাধ্যমে দেখান যে, তড়িত্ প্রবাহের ফলে চৌম্বকক্ষেত্র সৃষ্টি হয়। তিনি একটি চুম্বকশলাকাকে মাঝামাঝি অবস্থায় স্ট্যান্ডে দাঁড় করিয়ে রাখেন। এটি তো উত্তর দক্ষিণ বরাবর থাকল। এরপর শলাকার উপর দিকে U আকৃতির একটা তড়িত্পরিবাহী তার রেখে তারের সাথে বিদ্যুত্ সংযোগ দিয়ে দেখলেন চুম্বকশলাকাটি বিক্ষেপ দিচ্ছে।
বিক্ষেপ দিচ্ছে মানে কী? সীমা বলল।
বিক্ষেপ দিচ্ছে মানে হচ্ছে সরে যাচ্ছে, কাঁটাটা নড়ছে-বললেন নীলকান্তবাবু।
এতে কী বোঝা গেল? রেখা বলল।
এতে বোঝা গেল তড়িত্ প্রবাহের ফলে চৌম্বকক্ষেত্র সৃষ্টি হচ্ছে। কারণ একটা চুম্বককে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ করতে পারে আরেকটা চুম্বক এবং তড়িত্ প্রবাহের ফলে এই ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে।
অণু বলল, এখন যদি তড়িত্ প্রবাহ বন্ধ করে দিই, মানে তড়িতের সুইচ অফ করে দিই, তাহলে কী হবে?
নীলকান্তবাবু বললেন, তড়িতের সুইচ বন্ধ করে দিলে চুম্বকশলাকা আবার আগের জায়গায় ফিরে আসবে। দিক পাল্টে দিয়ে তড়িত্ প্রবাহিত করলে, মানে হচ্ছে
প্লাস মায়নাস উল্টে দিয়ে আবার সুইচ টিপলে শলাকাটি আবার বিক্ষেপ দিবে এবং এবারে উল্টোদিকে বিক্ষেপ দেবে। এটি হচ্ছে ওয়েরস্টেডের পরীক্ষা।
পরের অংশ আগামীকাল
