মহারশি নদীতে চলছে অবাধে বালু উত্তোলন!

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২১, ২১:১৩

ঝিনাইগাতী (শেরপুর) সংবাদদাতা

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদী থেকে চলছে বালু উত্তোলন। নদীর পাড় কেটে ও গভীর গর্ত করে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। নদীর পাড় ঘেঁষে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে বনবিভাগের সন্ধ্যাকুড়া বিটের গোমড়া সামাজিক বনায়নের বাগান ধসে পড়তে শুরু করেছে।

নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম বলেন, মহারশি নদীর গোমড়া মৌজায় তাদের সামাজিক বনের পাশে এক একর জমি থেকে বালু উত্তোলনের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ইজারা দেওয়া হয়। ইজারাদারের লোকজন নদীর ৭-১০ একর জমিতে ১৫-২০টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু তুলছে। শুধু তাই নয় গোমড়া মৌজার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বসানো হয়েছে বালু উত্তোলন যন্ত্র। বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন করায় পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির সম্মুখিন হয়ে পড়ছে। তবে হলদীগ্রাম সীমান্ত ফাঁড়ির বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তের ১৫০ ফুটের মধ্যে বালু উত্তোলন না করার জন্য বলা হয়েছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা গেছে, বালু উত্তোলনকারীরা নদীর পাড় ও নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে গভীর গর্ত করে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। অবাধে বালু উত্তোলন, পরিবহন করায় ও অতিরিক্ত বালু বোঝাই ট্রাক অবাধে যাতায়াতের কারণে দুই পাশে এলজিইডির রাস্তাঘাট ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে এলাকার শতশত মানুষ। উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, অতিরিক্ত বালু বোঝাই ট্রাক অবাধে যাতাযাতের কারণে রাস্তা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

বনবিভাগের শেরপুরের সহকারী বন সংরক্ষক ড. প্রান্তোষ চন্দ্র রায় বলেন, গোমড়া সামাজিক বন ঘেঁষে নদীতে জেলা প্রশাসনের এক একর জমি রয়েছে। প্রতিবছর ঐ জমি থেকে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। আর ইজারাদারের লোকজন নিয়মনীতি উপেক্ষা করে গায়ের জোরে নদীর পাড় ঘেঁষে বালু উত্তোলন করে সামাজিক বনায়ন ধ্বংস করে চলছে। বাধানিষেধ করেও কোনো কাজে আসছে না। তিনি বলেন, সামাজিক বনায়ন ধ্বংস ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে বালু মহালটি ইজারা না দিতে জেলা প্রশাসনকে বহুবার আবেদন নিবেদন করলেও কোনো কাজে আসেনি। উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আল মাসুদ বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।