ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে হাসপাতালে করোনার চিকিত্সা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার কয়েক দিন পর ফের অসুস্থ হয়ে অনেকে মারা যাচ্ছেন। শৈলকুপা উপজেলার কাঁচেরকোল গ্রামের এক বৃদ্ধ দম্পতি করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। স্বামী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। এর কয়েক দিন পর ফের শ্বাসকষ্ট শুরু হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেওয়া হয় অক্সিজেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মারা যান। স্ত্রী এখনো চিকিত্সাধীন আছেন।
কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রশিদ জানান, হাসপাতাল থেকে করোনা চিকিত্সা শেষে বাড়ি ফিরে সাবধানতা অবলম্বন না করায় হার্টে সংক্রমণ হচ্ছে। শ্বাসকষ্ট শুরু হচ্ছে ও মারা যাচ্ছে। এ রকম বেশ কয়েক জন মারা গেছেন। এদিকে ঝিনাইদহে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে চলেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ছয় জন ও করোনা উপসর্গ নিয়ে দুই জন মারা গেছেন। এছাড়াও নতুন করে জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৭ জন।
সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সদর হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় করোনায় ছয় জন ও করোনা উপসর্গ নিয়ে একজন মারা গেছেন। এছাড়াও শৈলকুপা উপজেলার ব্রহ্মপুর গ্রামে উপসর্গ নিয়ে বাড়িতে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছেন একজন। এ নিয়ে জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২২৩ জনে। নতুন করে ১৮৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়। আক্রান্তের হার ২৫ দশমিক ৬৮ ভাগ। এদিকে লকডাউন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। রাস্তায় মানুষ ও যানবাহন চলাচল বেড়েছে। মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। হাটবাজারে ভিড় করে কেনাকাটা করছে। জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতে পুলিশ ও সেনা টহল আছে। গ্রামে লকডাউনের কার্যকারিতা নেই বললেই চলে। সিভিল সার্জন আরো বলেন, মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মানায় করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণ বেড়েছে। কেউ সচেতন হচ্ছেন না।
