চীনে আরও করোনা রোগী শনাক্তে গণপরীক্ষার উদ্যোগ

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২১, ২২:১৭

চীনে চলতি কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব তৃতীয় সপ্তাহে পড়ার পরও নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া থামাতে কিছু শহর গণপরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে।

বিবিসি ও রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, গত বছরের প্রাথমিক প্রাদুর্ভাবের পর থেকে জিরো-কোভিড কৌশল অনুসরণ করে আসছে চীন, কিন্তু করোনা ভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টকে দেশটির জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা বলে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে তাদের ধারণা, কিছু অর্থনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকি সত্ত্বেও করোনা ভাইরাসের এই অতি সংক্রামক ধরনটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ার আগেই কর্তৃপক্ষগুলো একে দমন করবে। ২০ জুলাই থেকে দেশটির এক ডজনেরও বেশি শহরে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগে দেশটির কর্মকর্তারা স্থানীয় সরকারি কর্তৃপক্ষগুলোকে কঠোরভাবে সংক্রমণ শনাক্ত করে প্রাদুর্ভাবের চক্রগুলো বন্ধ করতে বলেছে। রবিবার এক বিবৃতিতে দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন (এনএইচসি) বলেছে, ‘মানসিক শিথিলতা দৃঢ়ভাবে কাটিয়ে উঠতে হবে।’

How to Put People First As the Coronavirus Outbreak Grows – BRINK –  Conversations and Insights on Global Business
 
রবিবার চীনের মূলভূখণ্ডে ১২৫ জনের নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হয় যার মধ্যে ৯৪টি স্থানীয়ভাবে ছড়িয়েছে। এর আগের দিন শনিবার ৯৬ জন শনাক্ত রোগীর মধ্যে ৮১ জন স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হয়েছিলেন। দুই ক্ষেত্রেই বাকিরা বিদেশ থেকে আক্রান্ত হয়ে এসেছেন বলে সোমবার জানিয়েছে এনএইচসি। সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, রবিবার স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত অধিকাংশ রোগীই মধ্যাঞ্চলীয় শহর ঝাংঝৌ ও পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইয়াংঝৌতে শনাক্ত হয়েছে। ইয়াংঝৌ পঞ্চম পর্বেও মতো গণপরীক্ষা শুরু করেছে বলে সোমবার নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অপরদিকে ঝাংঝৌ শহরব্যাপী তৃতীয় পর্বের পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ শেষ করবে বলে আশা করছে।

জুলাইয়ের শেষ দিকে পূর্বাঞ্চলীয় শহর নানজিংয়ে প্রাদুর্ভাব শুরু হয়ে অনেকটা ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু ২ অগাস্ট থেকে দৈনিক পাঁচ জনের বেশি রোগী পাওয়া যায়নি বলে নগরীটি জানিয়েছে। শহরব্যাপী তিন পর্ব পরীক্ষা চালানোর পর এখন কিছু এলাকায় তৃতীয় পর্বের টার্গেটেড টেস্টিং শুরু করেছে নগরীটির কর্তৃপক্ষ। নতুন ৩৯ জনের মধ্যে উপসর্গবিহীন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, একদিন আগে সংখ্যাটি ৩০ ছিল। চীন এ ধরনের আক্রান্তদের নিশ্চিত সংক্রমণ হিসেবে গণ্য করে না। করোনা ভাইরাস মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে চীনে এ পর্যন্ত ৯৩ হাজার ৮২৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৪৬৩৬ জনে স্থির আছে।  

ইত্তেফাক/এএইচপি