বিবর্ণ ব্যাটিংয়ের পরও ম্যাচ জিতল

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২১, ২২:০৭

বাংলাদেশের কন্ডিশন, উইকেট বুঝতে বুঝতেই সিরিজটা হেরে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। টানা তিন হারে সিরিজ খোয়ানোর পর শেষ দুই ম্যাচে একাদশ গঠনেও বেশ বুদ্ধিদীপ্ততার পরিচয় দিয়েছে সফরকারীরা। বিশেষ করে তাদের বোলাররা মিরপুর স্টেডিয়ামের উইকেটে বোলিংয়ের ধরনটা আত্মস্থ করতে পেরেছেন অনেকটা। গতকাল যেমন শেষ ম্যাচে একাদশে চার স্পিনার রেখেছে অস্ট্রেলিয়া।

যদিও পেস বোলিং করা ড্যানিয়েল ক্রিস্টিয়ান ও নাথান এলিসই ইনিংস সবচেয়ে বেশি সফল হয়েছেন। দুজনই বলের গতির হেরফের করে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন। দুজনই দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। চার স্পিনারের মধ্যে তিন জন একটি করে উইকেট নিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার বোলিংটা ভালো হলেও কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে উন্নতির ছাপ দেখা গেল না। শেষ ম্যাচেও আগের চার ম্যাচের মতো গতকালও ব্যাটিংয়ে ছন্দহীন, বিবর্ণ স্বাগতিকরা। ব্যাটিং অর্ডারে অদল-বদল করেও আসেনি বড় স্কোর। টস জিতে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১২২ রান তুলেছে বাংলাদেশ।

অনেক সমালোচনার পরও দুই ওপেনার সৌম্য সরকার, নাঈম শেখকে একাদশে ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। টিম ম্যানেজমেন্ট হয়তো আস্থার প্রমাণ দিতে চেয়েছে তাদের প্রতি। তবে কিছুটা পরিবর্তনের পথে যেতেই হয়েছে। সৌম্যকে ওপেনিংয়ের বদলে চারে পাঠানো হয়েছিল। মেহেদী হাসান, নাঈম শেখের ওপেনিং জুটিতে অবশ্য পরিবর্তনের সুফল মিলেছিল। ৪২ রানের জুটি গড়েন তারা।

টসজয়ী বাংলাদেশ পঞ্চম ওভারে হারায় মেহেদীকে। দলীয় ৫৭ রানে ক্রিস্টিয়ানের বলে ক্যাচ তুলে ফিরেন নাঈম। ৩ রান পরই সাকিব বিদায় নেন, জাম্পার বলে এলবির ফাঁদে পড়েন তিনি। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ লোপ্পা ক্যাচ দিয়েছেন বোলার অ্যাগারকে। চারে নামা সৌম্য এই সিরিজে প্রথম বার দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে সক্ষম হয়েছেন। হয়তো টিম ম্যানেজমেন্টের মুখরক্ষাই হয়েছে তাতে। রানের জন্য তাড়াহুড়ো করে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন সৌম্য।

তবে অবাক করা বিষয় ছিল যে আফিফকে সাত নম্বরে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। তখন ইনিংসের মাত্র ৫ ওভার বাকি। অথচ সিরিজে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান তিনি। শেষ দিকে রানের তাড়ায় সুবিধা করতে পারেননি আফিফ। প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা মোসাদ্দেক ১৯তম ওভারে চারটি বল ডট দিয়েছেন। ক্রিস্টিয়ানের স্লোয়ারে বারবার পরাস্ত হয়েছেন। তার কারণেই শেষ দুই ওভারে প্রত্যাশিত রান পায়নি বাংলাদেশ।

ইনিংস সর্বোচ্চ ২৩ রান করেছেন নাঈম। মেহেদী ১৩, সাকিব ১১, সৌম্য ১৬, মাহমুদউল্লাহ ১৯, আফিফ ১০ রান করেন। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিস্টিয়ান-এলিস ২টি করে উইকেট পান। টার্নার, অ্যাগার, জাম্পা নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।