শেষ ম্যাচেও দাপুটে জয় বাংলাদেশের

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২১, ২৩:০৯

জান-ই-আলম

ক্রিকেটের ২২ গজ যেন জীবনের প্রতিচ্ছবি। কখনো রাজা, কখনো প্রজা। আগের ম্যাচেই বল হাতে পাঁচ ছক্কা হজম করেছিলেন সাকিব আল হাসান। গতকাল তার ঘূর্ণিতেই দিশেহারা অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচ শেষে ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১ হাজার রান ও ১০০ উইকেটের অনন্য রেকর্ডে উজ্জল সাকিব।

ক্রিকেটের কুলীন সমাজের প্রতিনিধি অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ সফরে আসার আগে একগাদা শর্ত জুড়ে দিয়েছিল। বিসিবিও তাদের আতিথ্যে কার্পণ্য করেনি। তবে মাঠের ক্রিকেটে তাদের নাকানি-চুবানি খাইয়ে ছাড়ল টাইগাররা। পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়া দল গতকাল স্বদেশে ফিরল অনেক লজ্জার রেকর্ড নিয়ে। 

গতকাল সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ। সিরিজটা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল জিতল ৪-১ এ। সাকিব আল হাসান ম্যাচ ও সিরিজ সেরার পুরস্কার পান।

পুরো সিরিজ জুড়েই বাংলাদেশের দাপটে নতজানু ছিল অস্ট্রেলিয়া। সিরিজের শেষ ম্যাচে যেন সফরকারীরা আত্মসমর্পণই করলো। গতকাল টি-২০ তে নিজেদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন ৬২ রানে অলআউট হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ১৩.৪ ওভারেই গুটিয়ে যায় তাদের   ইনিংস। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের সবচেয়ে কম ওভারে অলআউট হওয়ার ঘটনা এটি। এর আগে তাদের সর্বনিম্ন রান ছিল ৭৯, ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাউদাম্পটনে। বাংলাদেশের মাটিতেও এত কম রানে আগে অলআউট হয়নি দলটি। ২০১৪ সালে ভারতের বিপক্ষে ৮৬ রানে অলআউট হয়েছিল তারা।

বাংলাদেশের ১২৩ রানের টার্গেটটা অনাতিক্রম্য ছিল না। কিন্তু শেষ ম্যাচে রান তাড়ায় যেন আরও বিভ্রান্ত অস্ট্রেলিয়া দল।

কান্তাজ এয়ারলাইন্সের বিমানটা প্রস্তুত ছিল ঢাকার বিমানবন্দরে। মিরপুর স্টেডিয়াম থেকেও খুব দূরে নয়। মার্শ-হেনরিকসদের আসা-যাওয়ার মিছিল দেখে গতকাল কেউ কেউ হাস্যরসের ছলে বলছিলেন, যেন দেশে ফেরার বিমানে চড়ার তাড়াতেই ব্যাটিংয়ে এত লেজ গোবরে ব্যাটিং অস্ট্রেলিয়ার। অবশ্য মাঠ থেকেই সোজা বিমানবন্দরে চলে গিয়েছিল ম্যাথু ওয়েডের দল।

সাকিব, সাইফউদ্দিন মিলে গুড়িয়ে দিলেন সফরকারীদের ব্যাটিং লাইন। মুড়ি-মুড়কির মতো উইকেট হারালো দলটি। দুজন মাত্র দুঅঙ্কের ঘর স্পর্শ করেছেন। ওয়েড ২২, বেন ম্যাকডারমট ১৭ রান করেন। বাংলাদেশের সাকিব ৯ রানে ৪টি, সাইফউদ্দিন ১২ রানে ৩টি, নাসুম ২টি, মাহমুদউল্লাহ ১টি উইকেট পান।

গতকাল টস জিতে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১২২ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে সৌম্যর পরিবর্তে নাঈম শেখের সঙ্গে পাঠানো হয় মেহেদী হাসানকে। তারা ৪২ রানের জুটি গড়েন। ইনিংসে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ২৪ রানের জুটিটা ৪র্থ উইকেটে সৌম্য- মাহমুদউল্লাহর। এতেই স্পষ্ট মিরপুরের উইকেটে ব্যাটসম্যানরা কতটা সংগ্রাম করেছেন। চার স্পিনার নিয়ে একাদশ গড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। যদিও তাদের দুই পেসার ক্রিস্টিয়ান, এলিস ২টি করে উইকেট নিয়েছেন। তাদের স্লোয়ারের বিরুদ্ধে ব্যাট চালিয়ে সফল হননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।

ইনিংস সর্বোচ্চ ২৩ রান করেছেন নাঈম শেখ। মেহেদী হাসান ১৩, সাকিব ১১,  মাহমুদউল্লাহ ১৯, আফিফ ১০ রান করেন। চার নম্বরে নেমে সিরিজে প্রথমবার দুঅঙ্কের ঘর স্পর্শ করা সৌম্য ১৬ রান করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিস্টিয়ান-এলিস ২টি করে, অ্যাগার, টার্নার ও জাম্পা ১টি করে উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১২২/৮

অস্ট্রেলিয়া : ১৩.৪ ওভারে ৬২

ফল : বাংলাদেশ ৬০ রানে জয়ী

সিরিজ ও ম্যাচ সেরা:

সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ)