শ্রেণিকক্ষে শিক্ষককে হত্যার পর পাঁচ টুকরা লাশ মাটিচাপা

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২১, ২৩:১৬

সাভার আশুলিয়ায় নিখোঁজের ২৭ দিন পর সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ  বর্মণের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার বেরন এলাকার সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে মাটি খুঁড়ে মরদেহের খণ্ডিত পাঁচটি টুকরা উদ্ধার করা হয়। তাকে শ্রেণিকক্ষেই হত্যা করা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খণ্ডিত টুকরাগুলো উদ্ধারের পর ঐ কলেজটির সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন। 

গেফতারকৃতরা হলো—সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড  কলেজের শিক্ষক মোতালেব, রবিউল এবং রবিউলের ভাগিনা বাদশা মিয়া। এদের মধ্যে বাদশাকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে এবং মোতালেবকে রাজধানীর আশকোনা থেকে ও রবিউলকে আব্দুল্লাহপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আল মঈন জানান, হত্যাকাণ্ডের শিকার কলেজ অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ  বর্মণ অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং স্বনামধন্য শিক্ষক ছিলেন। তিনি অনেক ভালো কোচিং করাতেন বলে রবিউলের সঙ্গে মনোমালিন্য ছিল। এরই জেরে মিন্টু চন্দ  বর্মণের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষাণিত হয়ে এবং প্রতিষ্ঠানটির মালিকানার লভ্যাংশ নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধের সৃষ্টি হয়।

গত ৭ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির অংশীদার মোতালেব, রবিউল ও তার ভাগিনা বাদশা মিলে মিন্টুকে প্রতিষ্ঠানটির ১০৬ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে মিন্টুর মাথায় আঘাত করেন বাদশ  মিয়া। পরে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ ছয় টুকরা করে। এরপর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পাঁচটি টুকরা প্রতিষ্ঠানের সামনেই মাটিচাপা দিয়ে রাখে এবং তার খণ্ডিত মস্তকটি একটি পলিথিনে পেঁচিয়ে রাজধানীর আশকোনা নর্দ্দা এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেয়। মস্তকটি উদ্ধারে র্যাবের অভিযান চলমান রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, হত্যাণ্ডের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সিঁড়ির নিচে লুকিয়ে রাখা দা, শাবল, কোদাল, সিমেন্ট, বালু, তাদের পরিহিত গেঞ্জি এবং জিনসের প্যান্ট উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের পরিকল্পনা ছিল মৃতদেহটি পুঁতে রাখার পর জায়গাটি প্লাস্টার করে রাখবে এবং খণ্ডিত মৃতদেহের অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেবে। এরই অংশ হিসেবে নিহতের মস্তকটি রাজধানীর আশকোনা এলাকায় নিয়ে ফেলা হয়। মৃতদেহটি উদ্ধারের সময় থানা পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, মিন্টু চন্দ  বর্মণ নিখোঁজের ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই গত ২২ জুলাই আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়ারি দায়ের করেন। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটি র্যাবকে জানালে র্যাবও ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে নিখোঁজের ২৭ দিন পর সোমবার মধ্যরাতে প্রতিষ্ঠানটির অংশীদার রবিউলকে শনাক্ত করে রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল র্যাবকে হত্যার বিস্তারিত জানান।  রবিউলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মোতালেবকে রাজধানীর আশকোনা এলাকা থেকে এবং বাদশাকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়।

উল্লেখ্য, গত দুই বছর আগে ২০১৯ সালে মিন্টু চন্দ  বর্মণ অপর অংশীদার  মোতালেব, শামসুজ্জামান ও রবিউল ইসলামকে নিয়ে আশুলিয়ায় জামগড়া বেরন এলাকার জাহিদুল ইসলামের বাড়িভাড়া নিয়ে সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে পার্শ্ববর্তী স্বপ্ন নিবাসে বাসা ভাড়া থেকে মিন্টু প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর আগে থেকেই মিন্টু চন্দ  বর্মণ ঐ এলাকার অন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন চাকরি করতেন। হত্যাকাণ্ডের শিকার মিন্টু লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউপির বাড়াইপাড়া গ্রামের শরত্ বর্মণের ছেলে।