পরীমনি ইস্যুতে নাম প্রকাশের হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২১, ২৩:১৭

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহা. শহিদুল ইসলাম বলেছেন, পরীমনি ইস্যুতে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ব্যক্তির তালিকার কথা বলে একটি চক্র চাঁদাবাজিতে নেমেছে। এই চক্র বিশিষ্টজনদের কাছে ফোন করে তালিকায় তাদের নাম থাকার কথা বলে চাঁদা দাবি করছে। এখন পর্যন্ত তিন জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এই ধরনের চাঁদাবাজির শিকার হওয়ার কথা পুলিশকে জানিয়েছেন। তারা ফোন করে জানিয়েছেন, তারা আতঙ্কিত। চাঁদা না দিলে গণমাধ্যমে তার নাম প্রকাশ করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ডিএমপি কমিশনার বলেন, চিত্রনায়িকা পরীমনি, মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌর বাসায় যাতায়াত ছিল এমন ব্যবসায়ী বা ব্যক্তির কোনো তালিকা করা হয়নি। গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদর দপ্তরে নিজ কার্যালয়ে একাধিক দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) কৃষ্ণপদ রায় ও ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-কমিশনার ফারুক হোসেন।

ডিএমপির কমিশনার বলেন, পরীমনি, ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একটি গ্রুপ চাঁদাবাজি করছে বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তাদের কবল থেকে রক্ষা পেতে দুই-তিন জন ব্যবসায়ী ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ভুক্তভোগীরা এসব চাঁদাবাজের বিষয়ে তথ্য দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। তিনি চাঁদাবাজদের কল রেকর্ড করে পুলিশের কাছে জমা দিতে বলেন। পাশাপাশি ডিএমপি কমিশনার এই চাঁদাবাজদের বিষয়ে স্থানীয় থানাকে তথ্য জানাতে অনুরোধ করেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, যারা ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু আইনে মামলা হয়েছে। সেই মামলাগুলোই তদন্ত করছে পুলিশ। হঠাত্ কেন অভিযান—এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমাদের কাছে তথ্য ছিল গুলশান-বনানীসহ অভিজাত এলাকায় একটি চক্র অশুভ কাজে জড়িত। সমাজের স্বার্থে এই চক্রটিকে একটু ধাক্কা দেওয়ার দরকার ছিল।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম সাকলায়েনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, বিসিএস পাশ করা একজন অফিসার এ ধরনের কাজ করবে তা মেনে নেওয়া যায় না। তার স্ত্রী-সন্তান আছে। পরীর সঙ্গে যদি তার মনের মিল হয়ে থাকে, যদি তাকে বিয়ে করতে হয়, তাহলে তো সামাজিক রীতিনীতি মেনে করতে হবে। তিনি যা করেছেন তার ফল তাকে ভোগ করতে হবে। পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে তদন্ত গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাকলায়েনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণে সিসি ক্যামেরার ফুটেজই যথেষ্ট।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে ভালো এবং দক্ষ তদন্ত ইউনিট হলো ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মডেল-অভিনেত্রীদের মামলা কেন সিআইডিতে পাঠানো হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, বিতর্ক এড়াতে এটা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চিত্রনায়িকা পরীমনিসহ সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা সাতটি মামলা তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।