রংপুর মেডিক্যালের ডেন্টাল ইউনিটে জোড়াতালি দিয়ে চলছে চিকিত্সা

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২১, ২৩:২৩

রংপুর বিভাগের সব প্রকার চিকিত্সার একমাত্র আশ্রয়স্থল রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক যুগ ধরে জোড়াতালি দিয়ে চলছে ডেন্টাল ইউনিটের চিকিত্সাসেবা। যন্ত্রপাতি ও জনবল সংকটে চিকিত্সাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ডেন্টাল ইউনিটে অচল শীতাতপ যন্ত্রের কারণে রোগীদের সব ধরনের অপারেশনও বন্ধ রয়েছে। মাত্র পাঁচটি ডেন্টাল বেড দিয়ে ৫০ আসনের এই ইউনিটে চিকিত্সা কার্যক্রম চলছে। বিশেষায়িত যন্ত্রপাতিসহ জনবল বরাদ্দ দেওয়া হলে এই ইউনিট থেকে বিশ্বমানের সেবা দেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রোগ নির্ণয়ের জন্য উচ্চ মূল্যের ডেন্টাল সিটি স্ক্যান ও ওপিজি এক্সরে মেশিন দুটি অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে আছে ২০১৩ সাল থেকে।

ডেন্টাল ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. আরিফুল মওলা সোহেল জানিয়েছেন, ২০১২ সালে হাসপাতালের নতুন ছয়তলা ভবনে ৫০ আসনের ডেন্টাল ইউনিটে বিডিএস কোর্স চালু হয়। ইউনিটের বহির্বিভাগে প্রতিদিন শতাধিক রোগী চিকিত্সা নিতে আসেন। কিন্তু পর্যাপ্ত ডেন্টাল চেয়ার ও রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা না থাকায় প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা আর সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যে পাঁচটি ডেন্টাল বেড রয়েছে, তার মধ্যে দুটিরই ফ্লাস লাইট নষ্ট। টর্চলাইট জ্বালিয়ে বহির্বিভাগে চিকিত্সা চালিয়ে নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর রোগীদের মতোই সিরিয়াল নিয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন রংপুর মেডিক্যাল কলেজের ইন্টার্ন চিকিত্সকরা। কয়েক বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে এই বিভাগের দুটি এসি। দুর্বল ফ্যান চালিয়ে গরমের মধ্যে চিকিত্সা দিতে হচ্ছে। পরিচালকের কাছে কয়েক দফা চিঠি চালাচালি করেও কোনো সুফল মেলেনি।

ডেন্টাল ইউনিট প্রধান ডা. মো. রাশেক রায়হান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ইউনিট চালুর পরে রোগ নির্ণয়ের জন্য উচ্চ মূল্যের ডেন্টাল সিটি স্ক্যান ও ওপিজি এক্সরে মেশিনটি দুটি অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে আছে ২০১৩ সাল থেকে। দীর্ঘ দিন ধরে ইউনিটে রেডিওগ্রাফারের পদ শূন্য থাকায় মেশিন দুটি চালু করা সম্ভব হয়নি। ইউনিটটি চালুর পর চিকিত্সক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৮৮টি পদ সৃষ্টি হয়। কিন্তু চলতি বছরের ১৫ জুন পর্যন্ত মাত্র সাতটি পদে চিকিত্সকের পদায়ন হয়েছে। শূন্য রয়েছে টেকনোলজিস্টসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ। ৫০ আসনের ডেন্টাল ইউনিটে চালু আছে বিডিএস কোর্স। লিফটবিহীন ছয়তলা ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ২০২০ সালের মার্চে। শুধু জনবল সংকটের কারণে পুরো বিভাগ চালু করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। আন্তঃবিভাগে ১২টি বেড স্থাপন করা হলেও সেগুলোরও অবস্থা জীর্ণদশা। গভীর নলকূপের পানিতে আয়রন থাকায় ব্যবহারের অনুপযোগী। এসি না থাকায় অপারেশন থিয়েটারে অপারেশন বন্ধ রয়েছে।

ইউনিটের ম্যাক্সিলো ফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের ইনচার্জ সাহানা আখতার লাভলী জানিয়েছেন, এসি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রচণ্ড গরমের কারণে এরারটাইট এই অপারেশন থিয়েটারে ১ মিনিটের বেশি সময় থাকা যায় না। এছাড়া করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে অপারেশন বন্ধ থাকায় অপারেশন থিয়েটারের অনেক যন্ত্রাংশ নষ্ট হতে বসেছে।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. রেজাউল করিম ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, ইউনিটের গুরুত্বের কথা ভেবে সব সমস্যার সমাধান করা হবে। উদ্যোগের বিপরীতে পর্যাপ্ত অর্থেরও প্রয়োজন। আগামী বাজেটে ডেন্টাল ইউনিটের গতি ফিরিয়ে আনতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।