সাকিবের অনন্য কীর্তি

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২১, ০০:২৩

আগের ম্যাচেই বল হাতে ক্যারিয়ারের অন্যতম বাজে এক দিন কাটিয়েছেন। চার ওভারে ৫০ রান খরচ করে উইকেট পাননি একটিও। তাই সেদিন ছোঁয়া হয়নি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০০ উইকেটের মাইলফলক। তবে তিনি সাকিব আল হাসান বলেই হয়তো বেশি দিন অপেক্ষায় রাখেননি। সিরিজের শেষ ম্যাচেই লেখেন প্রত্যাবর্তনের অসাধারণ গল্প। চতুর্থ ম্যাচের খরুচে সাকিব, পঞ্চম ম্যাচেই পরিণত হন কিপটে সাকিবে। যেখানে মাইলফলক তো ছুঁয়েছেনই, গড়েছেন অনন্য এক কীর্তি।

লাসিথ মালিঙ্গার পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় বোলার হিসেবে ১০০ উইকেটের মালিক হতে সাকিবের প্রয়োজন ছিল মাত্র দুটি উইকেট। একই সঙ্গে হাতছানি দিচ্ছিল  প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১ হাজার রান ও ১০০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি। দুর্দান্ত বোলিংয়ের মাধ্যমে দুটোই ছুঁয়ে ফেলেছেন বিশ্বের অন্যতম এই অলরাউন্ডার। ৩.৪ ওভারে মাত্র ৯ রান এবং এক মেইডেনে ৪ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে উপহার দিয়েছেন তাদের ইতিহাসে অন্যতম বড় লজ্জা।

বাংলাদেশের ৬০ রানের বড় জয়ে স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ-সেরা ও সিরিজ-সেরার পুরস্কারটা ওঠে সাকিবের হাতে। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে এ নিয়ে ১৬ বার সিরিজ-সেরার পুরস্কার পেলেন। নিজের অনন্য এই দিনে সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সাকিব বলেন, ‘আমি এখনো ক্রিকেটটা উপভোগ করছি। এটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সতীর্থদের ধন্যবাদ, তাদের সাহায্য না পেলে এই অর্জন সম্ভব হতো না।’

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে একসঙ্গে ১ হাজার রান ও ১০০ উইকেট নেই আর কোনো ক্রিকেটারের। সাকিবও জানতেন সেই ব্যাপারটা। নতুন ইতিহাস গড়ে তিনি বলেন, ‘এর আগে কেউ কি করেছে? মালিঙ্গা? আমার মনে হয় না সে ১ হাজার রান করেছে। মাঝেমধ্যে আমিও রেকর্ডে চোখ রাখি।’

পুরো সিরিজ জুড়ে ব্যাটসম্যানরা বিবর্ণ থাকলেও এর বিপরীত ছিলেন বোলাররা। তবে আজ উদ্বোধনী জুটিতে ভালো এক শুরু পায় বাংলাদেশ।  কিন্তু মিডল অর্ডারদের ব্যর্থতায় রান ১২২-এর বেশি আর এগোয়নি। তার পরও বোলারদের কৃতিত্ব আরো একবার জয় ছিনিয়ে নেয় টাইগাররা। তাদের প্রশংসা করে সাকিব বলেন, ‘আমি মনে করি পুরো সিরিজে বোলাররা দুর্দান্ত খেলেছে। আমরা প্রতিটা জায়গাই উন্নতির চেষ্টা করছি। ফাস্ট বোলাররাও খুব ভালো করছে, মুস্তাফিজ, শরিফুল, তাসকিনের দিকে দেখুন। তারা স্পিনারদের কাজটা আরো সহজ করে দিয়েছে।’