ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ভাষা-সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ করা হলে বিশ্বের মানচিত্রে মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার স্বার্থেও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা-সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখা প্রয়োজন। গতকাল সোমবার বিকালে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের আদিবাসীদের বিপন্ন সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’ এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে। সভায় বক্তারা ৯ আগস্ট জাতিসংঘঘোষিত আদিবাসী দিবস জাতীয়ভাবে উদ্যাপনেরও আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, বাংলাদেশে পঞ্চাশেরও অধিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় ভাষা ও সংস্কৃতি এ দেশের নৃ-তাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক মানচিত্রকে সমৃদ্ধ করেছে। সরকারি নীতি এবং পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বাংলাদেশের এই মূল্যবান সম্পদ আজ অবলুপ্তির পথে। গবেষকদের মতে, এই শতাব্দী শেষ হওয়ার আগেই বিশ্বের অর্ধেকের বেশি ভাষা হারিয়ে যাবে।
প্রধান বক্তা ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয় ককাসের আহ্বায়ক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি পাহাড়ি জনগোষ্ঠী পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নকে জরুরি দাবি হিসাবে উত্থাপন করেন। শান্তিচুক্তির অংশ হিসাবে ভূমি কমিশন গঠিত হলেও এর কার্যক্রম স্থবির। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এখনো ভূমির ওপর তাদের অধিকার অর্জন করতে পারেননি।
সভায় আরো বক্তব্য করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহসভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার, বাংলাদেশ ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ভদ্র ম্রং, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সদস্য অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, জাতীয় সংসদের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য রাজনীতিবিদ জুয়েল আরেং এমপি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মানবাধিকার নেতা সঞ্জিব দ্রং, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক সমাজকর্মী কাজী মুকুল।
