স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে সরকারি জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেছিলেন রাজশাহী নগরীর এক গৃহবধূ। কিন্তু বিচারপ্রার্থী গৃহবধূকে উলটো যৌন নির্যাতন করেছে পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা। ঘটনাটি ঘটেছে গত রবিবার দুপুরে নগরীর বোসপাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. শামীমকে গতকাল সোমবার প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক বলেন, ‘মেয়েটির বাবা আমার কাছে অভিযোগ করার পর অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য শামীমকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে পাঠিয়েছি। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঐ গৃহবধূর হোটেল কর্মচারী বাবা জানান, প্রায় ছয় মাস আগে নগরীর খড়বোনা এলাকার লিটনের ছেলে রিপন (১৯) ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তার মেয়েকে (১৮) বিয়ে করে। বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে তার মেয়ের ওপর প্রায়ই নির্যাতন চালাত। ঈদের পাঁচ দিন আগে মারপিট করে তাকে তাড়িয়ে দেয়। গত শুক্রবার রিপন ও তার মা মেয়েকে নিয়ে যেতে তাদের বাড়িতে আসে। এসময় নির্যাতনের ভয়ে মেয়ে যেতে রাজি না হলে তাকে আবার তারা মারপিট করে। এ ঘটনায় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিচার চায় তার মেয়ে। এরপর বোসপাড়া ফাঁড়ির এএসআই শামীম ও একজন কনস্টেবল তার বাড়িতে গিয়ে জানায় বিষয়টি তারা সমাধান করে দেবে। ফেরার সময় তারা কিছু ‘খরচা’ চায়। কিন্তু কর্মহীন হোটেল কর্মচারী তাদের ১০০ টাকা দিয়ে বিদায় করেন।
মেয়েটির বাবা আরো জানান, রবিবার দুপুরে তিনি কাজে চলে যান। এসময় শামীম ফোন করে ফাঁড়িতে যেতে বললে তার স্ত্রী মেয়েকে নিয়ে ফাঁড়িতে যান। এসময় এএসআই শামীম তার স্ত্রীকে বলেন, ‘আপনার মেয়ের সঙ্গে কথা আছে। আপনি বাইরে যান।’ স্ত্রী বাইরে গেলে শামীম তার মেয়েকে জাপটে ধরে। সঙ্গে সঙ্গে তার মেয়ে চিত্কার করে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। এ সময় একজন কনস্টেবলও বাইরে থেকে এ দৃশ্য দেখেছে। এরপর ঘটনা জানাতে তারা আবারও ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। এরপর তারা ঘটনাটি বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মনকে জানান। পরে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরমান আলী ফাঁড়ির এএসআই শামীমকে ডেকে নিয়ে বিষয়টি আপস করে নিতে বলেন। কিন্তু মেয়েটির বাবা রাজি হননি। একপর্যায়ে এএসআই শামীম মেয়েটির বাবার পা জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চায়। কিন্তু মেয়ের বাবা তা মানেননি। সেখান থেকে তিনি চলে আসেন। পরে তিনি পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ জানান।
