তড়িত্চুম্বকীয় আবেশ

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২১, ২০:০৫

মাধব রায়, কথাসাহিত্যিক, সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)

ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট

গতকালের পর

ওয়েরস্টেড কোন দেশের বিজ্ঞানী বাবা? বিন্দু বলল।

ডেনমার্কের। হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড (Hans Christian Oersted) কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিদিনের মতো ক্লাস নিচ্ছিলেন। প্র্যাকটিকেল করে বিদ্যুতের কলাকৌশল শিখাচ্ছিলেন তিনি। একটা তারের মধ্য দিয়ে তড়িত্ পাঠানোর সময় হঠাত্ করে দেখলেন পাশের ডায়াসে রাখা একটা কম্পাস কাঁপতে শুরু করেছে। বিদ্যুত্ প্রবাহ বন্ধ করে দিলে কাঁপাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এরপরই তিনি এরকম একটি পরীক্ষা করলেন এবং এটি প্রকাশ করলেন। এতে করে ইউরোপিয় বিজ্ঞানী মহলে আলোচনা শুরু হলো। এটি প্রকাশের মাস দুয়েক এর মধ্যেই ফরাসি গণিতবিদ অঁদ্রে-মারি অ্যাম্পিয়ার (Andre Marie Ampere) এ নিয়ে আরও বড় পরিসরে একটি পরীক্ষা করলেন। তিনি দুটো বৈদ্যুতিক তারকে খুব কাছাকাছি রেখে প্রত্যেকটির মধ্য দিয়ে তড়িত্ প্রবাহিত করে দেখলেন, বিদ্যুত্ যখন একই দিকে প্রবাহিত হয়, তখন তার দুটি পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। আবার যখন বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়, তখন পরস্পরকে আকর্ষণ করে। এই পরীক্ষা থেকে অ্যাম্পিয়ারও বললেন, তার দিয়ে যখন বিদ্যুত্ প্রবাহিত হয়, তখন এর চারদিকে চৌম্বকক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়।

এরপর ১৮২৮ সালে ইংরেজ পদার্থবিজ্ঞানী উইলিয়াম স্টারজোন একটি মজার পরীক্ষা করেন। তিনি একটি কাঁচা লোহার দণ্ড নিয়ে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে সম্পূর্ণ পেঁচিয়ে নেন। এরপর লোহার টুকরাকে বাঁকিয়ে Uআকৃতি বা ঘোড়ার খুরের আকৃতি দিয়ে দেন। বিদ্যুত্ চালনা করার পর দেখা গেল লোহাটি চুম্বকের মতো আচরণ করে। দুইটি বিপরীত মাথা চুম্বকের দুটি বিপরীত মেরুর মতো আচরণ করে। তাহলে ওয়েরস্টেড, অ্যাম্পিয়ার এর পরীক্ষা থেকে আমরা কী বোঝলাম?

আকাশ বলল, আমরা বোঝলাম, তড়িত্ প্রবাহের ফলে আশেপাশে চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়, তড়িত্ প্রবাহ যতক্ষণ থাকে, চৌম্বকক্ষেত্রও ততক্ষণ থাকে।

নীলকান্তবাবু বললেন, আরও বোঝলাম-চৌম্বকক্ষেত্রের মান তড়িত্ প্রবাহের মাত্রার ওপর নির্ভর করে। দিকও তড়িত্ প্রবাহের দিকের ওপর নির্ভর করে।

বোঝলাম না।

মান, মানে হচ্ছে, তড়িত্ প্রবাহের পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে চৌম্বকক্ষেত্রের পরিমাণও বাড়ে। আর দিকটা একটু অন্যভাবে বোঝাতে হবে। আমরা কাউকে ও-কে বোঝাতে কী দেখাই?

বিন্দু বৃদ্ধাঙ্গুল দেখাল।

হ্যাঁ, বললেন নীলকান্তবাবু। কোন হাত দিয়ে?

ডান হাত দিয়ে, বলল বিন্দু।

এই ও-কে দেখানোর সময় অন্য আঙ্গুলগুলো কীভাবে থাকে?

বিন্দু অন্য চারটি আঙ্গুলের দিকে তাকাল। অন্যরাও বিন্দুর দিকে চেয়ে আছে।

নীলকান্তবাবু বললেন, অন্য আঙ্গুলগুলো গোল হয়ে আছে না?

হ্যাঁ।

এখন অন্য চারটি আঙ্গুলের দিকে যদি তড়িত্ প্রবাহিত করি, তাহলে চৌম্বকক্ষেত্রের দিক হবে এই বুড়ো আঙ্গুলের দিকে।

এখন বুঝতে পারছি বলল আকাশ।

নীলকান্তবাবু বললেন, একে বলা হয় ফ্লেমিং এর ডান হস্ত নিয়ম (Fleming’s Right Hand Rule) বা বৃদ্ধাঙ্গুল নিয়ম (Fleming’s Thumb Rule)।

স্টিফেন ফ্লেমিং? বললেন কমলা।

না, স্টিফেন ফ্লেমিং তো নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটার । তিনি হচ্ছেন স্যার জন অ্যামব্রোস ফ্লেমিং (Sir John Ambrose Fleming) ইংল্যান্ডের একজন তড়িত্ প্রকৌশলী এবং পদার্থবিজ্ঞানী।

অণু বলল, যেহেতু চৌম্বকক্ষেত্রের মান আছে, সেহেতু এটি পরিমাপের এককও আছে, সেটি কী?