এইচএসসি পরীক্ষা ২০২২ :হিসাববিজ্ঞান প্রথমপত্র

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২১, ০০:০৬

মো. শহিদুল ইসলাম, প্রভাষক হিসাববিজ্ঞান বিভাগ

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস্ স্কুল এন্ড কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

সুপ্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, কেমন আছো? তোমাদের এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তাই আজ আমি তোমাদের হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে কীভাবে ভালো ফলাফল অর্জন করা যায় সে সম্পর্কে কিছু টিপস্ দিচ্ছি যা তোমাদের অনেক উপকারে আসবে।

তোমরা সবাই নিশ্চয়ই অবগত আছো তোমাদের সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের আলোকে পরীক্ষা হবে। তাই সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের আলোকে হিসাববিজ্ঞানের সৃজনশীল অংশের অধ্যায়গুলোর গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো তুলে ধরা হলো।  এক্ষেত্রে একটি বিষয় তোমাদের খেয়াল রাখতে হবে যে, সৃজনশীল প্রশ্নের ক্ষেত্রে কোনো থিওরি থাকবে না সবগুলোই গাণিতিক টার্ম হবে।

২য় অধ্যায়:

হিসাবের বইসমূহ অধ্যায়টি বেশ কতগুলো অংশে বিভক্ত যেমন সমীকরণ, জাবেদা, খতিয়ান, নগদান বই ইত্যাদি। সমীকরণ অংশের ক্ষেত্রে প্রশ্নটি পড়ে প্রথমেই সম্পদ ও দায়ের কলাম নির্ণয় করতে হবে। যদি পূর্বের কোনো জের দেওয়া থাকে তাহলে প্রথমেই ব্যালেন্স বি/ডি নামে সেই জেরগুলো লিখতে হবে, সম্পদগুলো সম্পদের পার্শ্বে ও দায়গুলো দায়ের পার্শ্বে এবং সম্পদ ও দায়ের পার্থক্যকে মূলধন কলামে লিখতে হবে। জাবেদা অংশ থেকে সাধারণ জাবেদা ও বিশেষ জাবেদা কীভাবে প্রণয়ন করতে হয় সেগুলো ভালো করে আয়ত্ত করতে হবে। খতিয়ানের ক্ষেত্রে যদি টি ছক বা চলমান জের ছকের কোনো নির্দেশনা না থাকে তাহলে যেকোনো পদ্ধতিতেই করা যাবে। নগদান বই এর ক্ষেত্রে দুঘরা, তিনঘরা ও খুচরা নদগান বই কীভাবে প্রণয়ন করতে হয় সে সম্পর্কে ভালো ধারনা রাখতে হবে।

৩য় অধ্যায়:

ব্যাংক সমন্বয় বিবরণী থেকে একক জের পদ্ধতি ও উভয় জের পদ্ধতিতে কীভাবে ব্যাংক সমন্বয় বিবরণী করতে হয় সেটি ভালোভাবে শিখতে হবে। নদগান বই অনুযায়ী ব্যাংক জমার সাথে কোন কোন এন্ট্রি যোগ এবং কোন কোন এন্ট্রি বিয়োগ করতে হয় সে বিষয়ে ভালো জ্ঞান রাখতে হবে, অতঃপর পাশ বই অনুযায়ী ব্যাংক জমার সাথে সেটার বিপরীত করতে হবে।

৪র্থ অধ্যায়: 

রেওয়ামিল অধ্যায়টি থেকে দু ধরনের প্রশ্ন হতে পারে। প্রথমত রেওয়ামিল আরেকটি হচ্ছে ভুল সংশোধনী। রেওয়ামিল প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রথমেই পেন্সিল দিয়ে ক্রেডিট দিকের এন্ট্রিগুলো টিক চিহ্ন দিবে এবং যেগুলো রেওয়ামিলে আসবে না সেগুলো ক্রস চিহ্ন দিবে তাহলে সৃজনশীল প্রশ্নটি সমাধান করতে সুবিধা হবে এবং তাড়াতাড়ি হবে। ভুল সংশোধনীর ক্ষেত্রে প্রথমে সেটি কোন ধরনের ভুল তা নির্ণয় করবে তারপর সে ভুলটি কীভাবে সমাধান করতে হয় সেটি নিয়মমাফিক সমাধান করবে।

৮ম অধ্যায় :

দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সম্পদের হিসাব অধ্যায়টি থেকে প্রথমত বিভিন্ন পদ্ধতি (সরলরৈখিক পদ্ধতি, ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতি, বর্ষ সংখ্যা পদ্ধতি, উত্পাদন একক পদ্ধতি) অনুযায়ী কীভাবে অবচয় নির্ণয় করতে হয় সেটি জানতে হবে। তারপর কয়েক বছরের জাবেদা কীভাবে দিতে হয়, অবচয় হিসাব প্রস্তুত, পুঞ্জিভুত অবচয় হিসাব প্রস্তুত, মেশিন হিসাব প্রস্তুত, আয় বিবরণীতে প্রভাব, আর্থিক বিবরণীতে প্রভাব কীভাবে দেখাতে হয় সেগুলো জানতে হবে। সবশেষে মাঝামাঝি কোনো এক সময়ে মেশিন বিক্রয় করা হলে সেটির লাভ/ক্ষতি কীভাবে নির্ণয় করতে হয় এবং জাবেদা দিতে হয় সেটি জানতে হবে।

৯ম অধ্যায়:

আর্থিক বিবরণী অধ্যায় থেকে বাধ্যতামূলকভাবে যেহেতু দুটি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে, তাই এই অধ্যায়টি খুবই গুরুত্ব সহকারে করতে হবে। এই অধ্যায়ে তিন ধরনের আর্থিক বিবরণী রয়েছে। সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের, ক্রয় বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের এবং উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিবরণী। তোমরা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নীট লাভ নির্ণয়, মালিকানা সত্ত্ব বিবরণী, উদ্বৃত্তপত্র প্রণয়ন করা শিখবে। এবং ক্রয় বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মোট লাভ নির্ণয়, নীট লাভ নির্ণয়, মালিকানা সত্ত্ব বিবরণী, মোট সম্পদ নির্ণয় এবং মোট দায় নির্ণয় করা শিখবে।