বারোমাসি তরমুজ চাষে শাহীনের সাফল্য

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২১, ২০:১৯

>> মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ

লকডাউনে অবসর সময়টুকু কাজে লাগিয়ে কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন মো. শাহীন আলম। বারোমাসি রঙিন তরমুজ আবাদ করে সুদিন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগে অধ্যয়নরত এ শিক্ষার্থী। শুরুটা চলতি বছরের জুন মাসে। লকডাউনে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আমিনুল হকের পরামর্শে শাহিনের এ কাজে আসা। অল্প সময়ে লাভজনক ফসল তরমুজ। ইউটিউবে মাচান পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ দেখে বাড়ির পাশের অনাবাদি জমিতে তরমুজ চাষ শুরু করেন তিনি। ২৫ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে গোল্ডেন ক্রাউন আর ব্লাক বেবি জাতের ৯০০ গাছ লাগিয়েছিলেন। শাহীন জানান, প্রথমে কাজটা অনেক কঠিন ছিল। জীবনে কখনো কৃষি কাজ করিনি, তাই আমার কাছে চ্যালেঞ্জিং ছিল। শুরুর দিকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। প্রথমদিকে গ্রামের মানুষ হাসাহাসি করেছে। তবে এখন মোটামুটি সবাই সাপোর্ট দিচ্ছে। াকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় এই প্রথম মাচান পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ হচ্ছে। আকারে বেশ বড় হলেও মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে ঝুঁকি কম। পানি জমে থাকে না। শুরুতে এ কাজে তার মূলধন ছিল ৩৫ হাজার টাকা। গোল্ডেন ক্রাউন (উপরে হলুদ ভিতরে লাল) ও ব্লাক বেবি (উপরে কালো ভিতরে লাল) এই দুই জাতের তরমুজ চাষ করেন তিনি। জানা গেছে, তরমুজগুলো ৬০-৭০ দিনের মধ্যে বিক্রয় উপযোগী হয়। আর কিছুদিন গেলেই সেগুলো বিক্রি উপযোগী হবে বলেও জানান তিনি। ৫০ দিন বয়সে এগুলোর ওজন হয় সাড়ে চার কেজির মতো। সুতার জালে মোড়ানো রয়েছে প্রতিটি তরমুজ। বেশিরভাগ তরমুজ এখন বিক্রয় করার মতো উপযোগী মনে করছেন তিনি। বিঘাপ্রতি জমিতে তরমুজ চাষ করতে তার ৪০-৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বিঘাপ্রতি উত্পাদন খরচ বাদে ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি। কৃষি উদ্যোক্তা শাহীন বলেন, ‘আমার বাবা-মা সহ পরিবারের সদস্যরা এ কাজে আমাকে সহায়তা করেছেন। আমার সহযোগী ছিলেন চাচাতো ভাই মানিক। ভাই এবং তার পরিবারের সবাইও পাশে ছিলেন।’ কৃষক না হয়েও প্রথমবারের মতো মাচান পদ্ধতিতে বারোমাসি তরমুজ চাষ সফলভাবে করতে পেরে খুবই আনন্দিত শাহীন।