মেসিকে বরণ করল পিএসজি

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২১, ২১:২৬

স্পোর্টস রিপোর্টার

গত দুই দশকেও ফুটবল দুনিয়ায় এমন ছবি কেউ দেখেছেন কি না স্মরণ করা গেল না। একজন ফুটবলার এক দল ছেড়ে অন্য দলে যাবেন আর সেই দেশের ফুটবল সমর্থকরা এমন আনন্দ নিয়ে বিমানবন্দরে ভিড় করবেন। এমন ছবি দেখা যায় না। এটি অচেনা এক ছবি। লিওনেল মেসিকে নিয়ে এমন অচেনা ছবি দেখেছেন ফুটবল দুনিয়ার মানুষরা। মেসি ফ্রান্সের পিএসজিতে যাবেন বলে ফুটবল দুনিয়া কাল মেতে ছিল মেসিকে নিয়ে। মেসির বাবা কি বলেছে। নেইমার কি বলছে। মেসি কখন রওনা দিল স্পেন হতে। বিমানে কে কে ছিলেন, কি হয়েছিল, কখন পৌঁছাবে সব কিছু নিয়ে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে উত্কণ্ঠা ছিল। মেসির প্রতি ভালোবাসা এমন উত্কণ্ঠায় ভাসিয়েছে। স্পেনে মেসিভক্তরা বার বার চিত্কার করে বলেছিলেন, ‘লিও যেও না, লিও যেও না।’

স্পেন হতে মেসি রওনা হওয়ার আগেই মেসির বাসা জর্জ মেসি ফুটবল দুনিয়ায় ঘোষণা দিয়েছেন তার ছেলে লিওনেল মেসি দুই বছরের চুক্তিতে পিএসজিতে খেলবেন। ৩৫ মিলিয়ন ইউরো পাবে বছরে। আর তৃতীয় বছরটি মেসি এবং পিএসজির জন্য খোলা থাকবে, দুই পক্ষ চাইলে তৃতীয় বছরটিও চুক্তি হবে, সেটি পরে।

স্পেনে বাসা হতে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ভক্তদের ভিড়, সাংবাদিকদের ভিড় লেগেছিল। বিমানবন্দরে আগেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। তার পরও মেসি ভক্তরা সেখানেও ভিড় করেছিল। কালো রংয়ের গাড়ি হতে নেমে আসেন তার স্ত্রী এবং তিন ছেলেকে নিয়ে। মেসির গায়ে তখন সাদা রংয়ের গেঞ্জি। বুকে এডিডাস লেখা। ব্যক্তিগত বিমানে প্যারিসের উদ্দেশ্যে উড়াল দেওয়ার পরই ৫০ হাজার মানুষ মেসির ফ্লাইট ট্র্যক করছিল মেসিকে বহনকারী বিমান কোথায় আছে তা জানতে। মেসির বিমান স্পেন হতে আকাশে উড়াল দেওয়ার চার ঘণ্টা আগেই প্যারিসের বিমানবন্দরে ভিড় জমে যায়। সেখানেও কড়া নিরাপত্তা, দর্শক ঠেকাতে বেষ্টনি। পুলিশের কড়া নজর।

প্যারিসে এসেই মেসির গায়ে গেঞ্জি বদলে গেল। বুকে প্যারিস লেখা নতুন গেঞ্জি গায়ে জানালায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় থাকা ভালোবাসার মানুষদের দিকে হাত নেড়ে অভিনন্দনের জবাব দিচ্ছিলেন ছয় বার ব্যালন ডিঅর জয়ী মেসি। লিওর হাসিমাখা মুখটা যেন জানিয়ে দিল আমি এসেছি তোমাদের ভালোবাসা পেতে, ভালোবাসা দিতে।

প্যারিসে পিএসজিতে আসবেন মেসি, তাই সেখানেও ছিল নিরাপত্তা বেষ্টনি। লাল গালিচায় মেসিকে বরণ করে নেয় পিএসজি। টুইট বার্তা দিয়ে পিএসজির তারকা নেইমার অভিনন্দন জানিয়েছেন পুরোনো বন্ধু মেসিকে। এক সঙ্গে বার্সেলোনায় খেলেছেন দুই জন। কতো স্মৃতি জড়িয়ে আছে দুই জনার। আবার দুই জন এক সঙ্গে সাফল্যের মাথা গাঁথবেন।

মেসি যখন স্পেন ছাড়ছিলেন তখন বার্সেলোনা ক্লাবে তার পোষ্টার নামিয়ে ফেলা হয়। ৯৯ হাজার দর্শক আসন বিশিষ্ট স্টেডিয়াম ন্যু ক্যাম্পের রাস্তার পাশের দেওয়ালে মেসিসহ বার্সেলোনার অন্যান্য তারকার ছবি শোভা পাচ্ছিল। সেখান থেকে মেসির ছবি সরিয়ে নেওয়া হয়।

মেসি ১০ নম্বর জার্সি গায়ে খেলেছিলেন বার্সেলোনায়। পিএসজিতে নেইমার ১০ নম্বর জার্সি গায়ে খেলছেন। মেসিকে দেওয়া হয়েছে ৩০ নম্বর জার্সি দেওয়া হয়েছে।

মেসি অর্ধেক বেতনে বার্সেলোনায় থাকতে চেয়েছিলেন। বার্সার প্রতি ভালোবাসার কারণেই পারিশ্রমিক নিয়ে কথা বলেনি। কিন্তু চুক্তি নিয়ে শেষ মুহূর্তে যা হয়েছে তা পছন্দ হয়নি মেসির। যেখানে বিশ্বাস ভঙ্গ হয় সেখানে অনেক কিছুই নষ্ট হয়ে যায়। আস্থা রাখা যায় না। ১৩ বছর বয়সে বার্সায় খেলতে নেমেছিলেন। ২১ বছরের সম্পর্কে চিড় ধরাতে চাননি মেসি। যে ঘরে ফুটবলার মেসির জন্ম সেই ঘর ছাড়তে চোখের পানি পড়েছে মেসির।