বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া গ্রামে সরকারি খালে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে পানি আটকিয়ে মাছ চাষ করায় জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে দুটি গ্রামের ১০ হাজার একর কৃষিজমি। এছাড়া এতে বৃষ্টির সময় বাড়িঘর তলিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।
জানা গেছে, আমতলী উপজেলার হলদিয়া ও গুরুদল গ্রামের মাঝখান দিয়ে কাউনিয়া নামে একটি খাল প্রবাহিত হয়ে জলেখার পাঁচ ব্যান্ডের স্লুইসগেটের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এই দুই গ্রামের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম এ খালটিতে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে গত কয়েক বছর ধরে মাছ চাষ করে আসছেন স্থানীয় এক প্রভাবশালী বাসিন্দা। খালটির পাঁচ জায়গায় বাঁধ এবং একটি কালভার্টের মুখ বন্ধ করে মাছ চাষ করায় গত কয়েক দিনের অতিবৃষ্টিতে ঐ এলাকা এখন তিন-চার ফুট পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। দেখা দিয়েছে মারাত্মক জলাবদ্ধতা। পানি নামতে না পারায় গ্রামের অধিকাংশ বাড়িঘরে পানি ঢুকে বেকায়দায় পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। অতিরিক্ত পানির কারণে হালচাষ করতে পারছে না কৃষক। এতে প্রায় ১০ হাজার একর জমি অনাবাদি থাকার আশঙ্কা করছেন তারা।
এদিকে সরকারি খালের বাঁধ অপসারণের দাবিতে ভুক্তভোগী কৃষকের পক্ষে রুহুল আমিন প্যাদাসহ কয়েক জন কৃষক মঙ্গলবার আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তারা জানান, প্রভাব খাটিয়ে কাউনিয়া খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় হলদিয়া এবং গুরুদল গ্রামের প্রায় ১০ হাজার একর জমি পানিতে তলিয়ে রয়েছে। আমন ধানের বীজ পচে নষ্ট হয়েছে। এখন আমাদের মরণ দশা।
তবে অভিযুক্ত নানানু মোল্লা বাঁধ দেওয়ার কথা অস্বীকার করে কালভার্টের মুখে জাল দিয়ে মাছ চাষের কথা স্বীকার করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে তদন্তের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে বাঁধ অপসারণ করে কৃষকদের জলাবদ্ধতা মুক্ত করা হবে।
