খুলনায় মো. রোকনুজ্জামান (৩৬) নামে এক যুবককে এক সঙ্গে দুই ডোজ করোনা টিকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা জেনারেল (সদর) হাসপাতাল টিকা কেন্দ্রে তার বাম হাতে দুই ডোজ করোনা টিকা দেন নার্স। এনিয়ে এক সপ্তাহে খুলনায় দুই জনের শরীরে একসঙ্গে দুই ডোজ টিকা দেওয়ার ঘটনা ঘটল।
রোকনুজ্জামান খুলনার কয়রা উপজেলা শ্রীফলতলা গ্রামের বোনাই মোড়লের ছেলে। বর্তমানে নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়ায় বসবাস করছেন। রোকনুজ্জামান বলেন, টিকা কেন্দ্রে গিয়ে চেয়ারে বসলে এক নার্স এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করেন আমার হাই প্রেশার আছে কি না? আমি বলি না। তিনি আমাকে টিকা দিয়ে কাগজটা দেন। আমি বসেছিলাম। এক মিনিটও হয়নি। এর মধ্যে অন্য আরেকজন নার্স এসে আমাকে আবার টিকা দিয়ে দেন। এ সময় আমার পাশে থাকা একজন বলেন, ওনাকে কেন টিকা দিলেন? ওনাকে তো টিকা দেওয়া হয়ে গেছে। আমি তখন বলি—আমাকে টিকা দিয়েছে, আবার দিলেন কেন? আপনি আমার কাছে জিজ্ঞাসা করেছেন? তখন সেই নার্স কোনো উত্তর দিতে পারেননি। তিনি অভিযোগ করেন, দুই ডোজ টিকা দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করায় নার্সরা আমাকে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। বর্তমানে আমার শরীর বেশ দুর্বল লাগছে। এর আগে গত শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকেও খুলনায় জহুরা বেগম (৭৩) নামে এক বৃদ্ধাকে দুই বার করোনা টিকা দেওয়া অভিযোগ উঠে।
খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, হাজার হাজার মানুষকে টিকা দিচ্ছি। একটা ভুল হলে হতে পারে। তবে যাকে দুই বার টিকা দেওয়া হয়েছে, তিনি ভালো আছেন। তার শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়নি।
গাইবান্ধার প্রতিনিধি : সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোস্তাফিজুর রহমান সাদা (৫৬) নামে এক ব্যক্তিকে দুই ধরনের দুই ডোজ টিকা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৪ জুলাই প্রথম ডোজ হিসেবে তাকে সিনোফার্মের টিকা দেওয়া হয় এবং গতকাল দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়া হয়েছে। মোস্তাফিজুর রহমান সাদা উপজেলা শহরের জয়েনপুর এলাকার মৃত. ইছাহাক আলীর ছেলে ।
টিকা প্রদানকারী ব্রাদার (সেবক) আবু তাহের জানান, প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে এই ভুলটি হয়েছে। সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহীনুল ইসলাম জানান, তেমন কিছু হওয়ার আশঙ্কা নাই। ঐ ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাকে এক মাস পর আবারও অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেওয়া হবে। তখন সিনোফার্মের প্রথম ডোজ টিকা অকার্যকর হয়ে পড়বে।
গাইবান্ধার সিভিল সার্জন আ ক ম আখতারুজ্জামান বলেন, আমরা টিকা দেওয়ার জন্য পৃথক বুথ করে দিয়েছি। হয়তো ভিড়ের কারণে এই ভুল হতে পারে। তবে এতে রোগীর কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নাই। কেননা টিকার বেসিক উপাদান সবই প্রায় এক।
