টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণসহ ১০ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২১, ২২:১২

গ্রাম পর্যায়ে টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ৫জি সেবা প্রদানে নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নসহ ১০ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। সভায় ‘শেখ হাসিনা সোলার পার্ক, জামালপুরে মাদারগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ’ প্রকল্পে নিজ নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল গণভবনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ভিডিও কনফারেনসিংয়ের মাধ্যমে শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা প্রকল্পটিতে প্রধানমন্ত্রীর নাম রাখার অনুরোধ করেন। তারা বলেন, এটা আইকনিক প্রকল্প। তাই আপনার নাম থাকা প্রয়োজন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে রাজি হননি। প্রকল্পটি থেকে তার নাম বাদ দিতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পের নতুন নাম সোলারপার্ক, মাদারগঞ্জ, জামালপুর দিতে বলেছেন। এছাড়া পর্যায়ক্রমে সারা দেশে জরাজীর্ণ ও বেইলি সেতু ভেঙে নতুন সেতু করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মারক সংগ্রহের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

একনেক সভায় মোট ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে একটি সংশোধিত। নতুন প্রকল্পে বরাদ্দ এবং সংশোধিত প্রকল্পে বাড়তি বরাদ্দ মিলিয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৯৮৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন (জিওবি) ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৬৬০ কোটি ২৯ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৩৭ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৮৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল)। দুই বছর মেয়াদের প্রকল্পটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। প্রকল্পটিতে ভারতীয় ঋণ পাওয়া যাবে ১ হাজার ১১৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

সভায় ২ হাজার ২০৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে গ্রাম পর্যায়ে টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ৫জি সেবা প্রদানে নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর কাজ শুরু হয়ে ২০২৩ সালের নভেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড। সভায় জানানো হয়েছে, প্রকল্পটির আওতায় নতুন ৩ হাজার বিটিএস সাইট তৈরি করা হবে (রুম, টাওয়ার, লক ইত্যাদি)। এছাড়া নিজস্ব-৫০০ সাইট এবং টাওয়ার শেয়ারিং-২৫০০ সাইট ধরা হয়েছে। গ্রাহক সেবা প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিদ্যমান ২ হাজার ৩জি/৪জি মোবাইল বিটিএস সাইটের যন্ত্রপাতিসমূহের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়া বিদ্যমান ২০০টি মোবাইল বিটিএস প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে সাইটসমূহের আধুনিকায়ন, বিদ্যমান ১ হাজার ২জি/৩জি মোবাইল বিটিএস সাইটে ৪জি বিটিএস সংযোজন, ফিক্সড ওয়ারলেস একসেস প্রযুক্তি স্থাপনের মাধ্যমে সরকারি দপ্তর, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ৫ হাজার এফডব্লিউএ ডিভাইস স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটির আওতায় মাইক্রোওয়েভ লিংক স্থাপন, কোর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণসহ চার্জিং, বিলিং, ভ্যালু এডেড সার্ভিস ও  অন্যান্য সাবসিস্টেম সম্প্রসারণ করা হবে।

সভায় ৬২ কোটি ৬৭ লাখ টাকায় দেশি ও বিদেশি উত্স থেকে মুক্তিযুদ্ধের অডিও ভিজ্যুয়াল দলিল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সক্ষমতা বৃদ্ধি শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ প্রকল্পটি আগামী দুই বছর মেয়াদে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উত্স  থেকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক অডিও-ভিজ্যুয়াল দলিলপত্র সংগ্রহ করা হবে। যাতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি রোধ করা যায়। এছাড়া  ৪০০ বীর মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাত্কারভিত্তিক তথ্যচিত্র নির্মাণ করা হবে। ফিল্ম মিউজিয়াম স্থাপন ছাড়াও বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক দুষ্প্রাপ্য ও ধ্রুপদী অডিও-ভিজ্যুয়াল দলিল মুদ্রণ, পুনঃ মুদ্রণ করা, দীর্ঘকালীন অডিও-ভিজ্যুয়াল দলিল সংরক্ষণ এবং শিক্ষা ও গবেষণার জন্য সংগৃহীত অডিও-ভিজ্যুয়াল দলিলসমূহ সময়ে সময়ে পরীক্ষা করা হবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত গ্রন্থ, সাময়িকী, প্রকাশনা, গানের বই, পোস্টার, প্রচারপত্র, স্থিরচিত্র, পাণ্ডুলিপি ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হবে। মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত অডিও-ভিজ্যুয়াল দলিল আর্কাইভের সংগ্রহ থেকে নিয়মিত প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে।

এছাড়া একনেক সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো—৮৬১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে জরাজীর্ণ, অপ্রশস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিদ্যমান বেইলি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সেতু প্রতিস্থাপন প্রকল্প (রংপুর জোন), ৪৬৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাগেরহাট-রামপাল-মোংলা জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নয়ন প্রকল্প, ১০৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট-৪ (অতিরিক্ত অর্থায়ন) (এলজিইডি অংশ) প্রকল্প, ১ হাজার ৯০ কোটি টাকায় ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, ৯২৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পল্লি জীবিকায়ন প্রকল্প-৩য় পর্যায়, ৬৯২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত দুধকুমার নদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্প। এছাড়া সভায় উপকূলীয় চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের ১ম সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় বেড়েছে ৫৯ কোটি ৯ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। চলতি বছরের জুনে এর মেয়াদ শেষ করার লক্ষ্য ছিল। এখন ১৫৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি ২০২৩ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।