সংরক্ষিত বনে সাফারি পার্ক হবে বনভূমি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২১, ০০:১৮

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় অবস্থিত লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনাঞ্চল জীববৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ এক প্রাকৃতিক বনভূমি ও বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য। জেলার একমাত্র সংরক্ষিত বন হিসেবে চিহ্নিত ক্রান্তীয় চিরসবুজ এই বনে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা এবং প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সাফারি পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে বন বিভাগ। এই সংরক্ষিত বনে সাফারি পার্ক স্থাপন করা হলে, বনভূমি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাবে বলে মনে করছেন বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।

গতকাল মঙ্গলবার প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষা মঞ্চের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। পাশাপাশি বনের মধ্যে অবস্থিত ছয়টি গ্রামের অন্তত ৩০০ পরিবার ও বননির্ভর স্থানীয় জনগোষ্ঠী উচ্ছেদের আশঙ্কা রয়েছে। ৯৮০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের আওতায় পর্যটকদের জন্য নানা অবকাঠামো, হোটেল-মোটেল, বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইন, উপকেন্দ্রসহ ভারী অবকাঠামো নির্মিত হবে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে বছরে ৮ থেকে ১০ লাখ দর্শনার্থী ভ্রমণ করবেন। সেগুনবৃক্ষ প্রধান ঐ বনভূমির ৫ হাজার ৬৩১ একর জুড়ে সাফারি পার্ক নির্মাণের প্রস্তাব করা হযেছে। এর ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক ও ৫০ কিলোমিটার উত্তরে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। সেখানে বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীদের মধ্যে হাতি, উল্লুক, মায়া হরিণ, উলটোলেজি বানর, আসামি বানর, মুখপোড়া হনুমান রয়েছে। এছাড়া আরো অসংখ্য বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ রয়েছে। তাছাড়াও এই বনাঞ্চলের কাছাকাছি প্রতিবেশী দেশ ভারতের সংরক্ষিত অভয়ারণ্য হতে বিভিন্ন পশু-পাখির নিয়মিত যাতায়াত ঘটে, যা সাফারি পার্কের ভৌত অবকাঠামোর কারণে বাধাপ্রাপ্ত হবে।

ইতিপূর্বে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি এই প্রকল্পের সমীক্ষার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। যা সংরক্ষিত বনের মধ্যে উক্ত সাফারি পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা ও উদ্যোগের সার্বিক উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।