দশমিনা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
দশমিনায় প্রথম বাণিজ্যিকভাবে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে সফল হয়েছেন তিন যুবক। করোনাকালীন বেকার হয়ে পড়া ঐ তিন যুবক গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে তাদের স্বপ্ন বুনছেন।
বুধবার কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহম্মেদকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলার ঐ তিন যুবকের তরমুজখেত পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট পটুয়াখালীর আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ইফতেখার মাহমুদ ও মো. রেজাউল করিম।
উপজেলার কাটাখালী গ্রামের যুবক রিপন মণ্ডল, কামাল আকন এবং পূর্ব লক্ষ্মীপুর গ্রামের মো. হিরন করোনা দুর্যোগে তাদের ক্ষুদ্র ব্যবসা হারিয়ে দশমিনা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষের উদ্যোগ নেন। চলতি বছরের জুন মাসে উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট পটুয়াখালীর আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের উদ্ভাবিত গ্রীষ্মকালীন ওপি জাতের বারি-১ ও বারি-২ তরমুজের চাষ করে সফল হয়েছেন তারা। বর্তমানে তাদের প্রত্যেকের ১ হাজার তরমুজগাছে ফল এসেছে। ঐ দুই জাতের এক একটি তরমুজ ছয় থেকে সাড়ে ছয় কেজি পর্যন্ত ওজন হয়েছে এবং প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন। রিপন মণ্ডল জানান, করোনার কারণে তার ক্ষুদ্র মুদি ব্যবসায় ধস নামে। সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়লে দশমিনা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে নিজস্ব জমিতে গ্রীষ্মকালীন সবজি ও তরমুজ চাষের উদ্যোগ নেন। ধারদেনা করে টাকা এনে ঝাকা তৈরি ও তরমুজগাছ লাগানোর জন্য জমি তৈরি করেন। এক মাসের মধ্যে তার গাছের তরমুজ বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি শুরু করে এখন খুশি। কামাল হোসেন জানান, পরম মমতায় গাছগুলোর পরিচর্যা করেন তিনি এবং ভালো ফলন হওয়ায় আশায় বুক বেঁধে আছেন তরমুজ বিক্রির টাকায় ভালো জীবনযাপনের। মো. হিরন বলেন, ভালো ফলন হওয়ায় তরমুজ বিক্রি করে লাভের টাকায় দরিদ্রতাকে মুছে ফেলার স্বপ্ন দেখছেন।
দশমিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাফর আহমেদ বলেন, গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে স্থানীয় যুবকদের উত্সাহসহ উপজেলা কৃষি দপ্তর থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। উপজেলায় এই প্রথম ঐ যুবকরা গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে সফল হয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট পটুয়াখালী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ইফতেখার মাহমুদ বলেন, আমরা ছয় বছর গবেষণার পর এই প্রথম গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চারা কৃষকের মধ্যে বিতরণ করি। তরমুজ ফলনে কৃষকের মুখের হাসি দেখে গবেষণা সফল মনে করে আমরা আনন্দিত।
