চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম থেকে সরাসরি পদ্ধতিতে ৬ কোটি টিকা ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। আগামী নভেম্বরের মধ্যে এই টিকা দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী টিকা ক্রয়ের এ তথ্য জানান। তবে কত টাকা খরচ হবে সেটি জানানো হয়নি। অর্থমন্ত্রী জানান, আগের যে দামে টিকা কেনা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি হবে না। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শামসুল আরেফিন সাংবাদিকদের বলেন, এটা নন ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট। সেজন্য চুক্তিমূল্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) কেনা হচ্ছে। চুক্তিপত্রে উল্লিখিত একক মূল্যে ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ১৩ কোটি ৮২ লাখ লোককে টিকা দেব। এর জন্য টিকা লাগবে ২৭ কোটি ৬৪ লাখ ডোজ। এ পর্যন্ত টিকা দেওয়া হয়েছে ২ কোটি ৫৩ লাখ। বাকি টিকা চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করা হবে। পর্যায়ক্রমে এই টিকা দেওয়া হবে।’
‘রেমিট্যান্স ম্যাজিক শেষ হচ্ছে’—ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সম্প্রতি এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘রেমিট্যান্স যে জায়গায় ছিল সে জায়গায়ই থাকবে। ২০১৯ সালে যখন আমরা রেমিট্যান্সের বিষয়ে প্রণোদনা দেওয়া শুরু করি, তখন থেকেই একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তারা বলে আসছিল এটা সাময়িক, সাসটেইনেবল নয়। তার আগে আমাদের রেমিট্যান্স ছিল প্রতি বছর ১৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার পর প্রথম বছরই আমাদের সংগ্রহ ১৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় বছরে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারে চলে যায়, এটা অবিশ্বাস্য।’ বিদেশগামীদের সহায়তার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তখন আরো বেশি মানুষ বিদেশে যাবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৯-২০ অথবছরে ৩ দশমিক ৫১ প্রবৃদ্ধি অজির্ত হয়। সেই বছর আমরা একটা অস্বাভাবিক সময় পার করেছি, বিশ্বের প্রায় সব দেশে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তার পরও আমরা ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছি। চলতি অর্থবছরের ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য পরিবর্তন করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের জিডিপির যে অবস্থা, তাতে আমরা এটি করতে পারব বলে আশা করি।’
অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে দুটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে শিখন দক্ষতার ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের অনলাইন/ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ডিজিটাল ক্লাসরুম কন্টেন্ট সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কোভিড-১৯ মহামারিতে আক্রান্ত রোগীর জীবন রক্ষার্থে দ্রুততম সময়ে পিসিআর টেস্ট কিট, এন্টিজেন টেস্ট কিটসহ বিভিন্ন মালামাল জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে টিকা ক্রয়সহ মোট ৯টি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে পেট্রোবাংলা কর্তৃক এলএনজি আমদানি কার্যক্রমে আইনি সহায়তার জন্য লিগ্যাল কনসালটেন্ট হিসেবে জি. টমাস (টম) ওয়েস্ট জুনিয়রকে পাঁচ বছরের জন্য ৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকায় নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভায় সেতু বিভাগের অধীন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বঙ্গবন্ধু সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কম্পানি লিমিটেডকে ১৭২ কোটি ৬১ লাখ টাকায় পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া উল্লেখযোগ প্রস্তাবের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক ২০২২ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক স্তরের (১ম ও ২য় শ্রেণি) বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের ৭৬ লাখ ৪২ হাজার ৭১টি বই ১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকায় মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক হাতিয়া দ্বীপ, নিঝুম দ্বীপ ও কুতুবদিয়া দ্বীপ শতভাগ নির্ভরযোগ্য ও টেকসই বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের প্যাকেজ নং জিডি-২-এর আওতায় টার্নকি ভিত্তিতে নির্মাণকাজ ১৪৮ কোটি টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
