টানা ১৮ দিন দুই শতাধিক মৃত্যু

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২১, ২২:২৪

দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে আরো ২৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে গত এক দিনে। এর মধ্য দিয়ে টানা ১৮ দিন মৃতের সংখ্যা ২০০-এর ওপরে রয়েছে। গত ২৪ জুলাই ১৯৫ জনের মৃত্যু হয়। এর পর থেকে প্রতিদিনই ২০০-এর ওপরে রোগী মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ হাজার ৪৩০টি নমুনা পরীক্ষা করে ১০ হাজার ৪২০ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে। নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত কোভিড রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭৪২ জন। তাদের মধ্যে ২৩ হাজার ৩৯৮ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে করোনা ভাইরাস।

আগের দিন মঙ্গলবার সারা দেশে ১১ হাজার ১৬৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়, মৃত্যু হয় ২৬৪ জনের। সেই হিসেবে এক দিনের ব্যবধানে শনাক্ত রোগী আর মৃত্যুর সংখ্যা দুটোই কিছুটা কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৩ হাজার ৩১৩ জন। এ নিয়ে মোট ১২ লাখ ৪৮ হাজার ৭৫ জন সুস্থ হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ৪৪ হাজার আটটি, আর আগের নমুনাসহ নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৪ হাজার ৪৩০টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৮২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭১টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা করা হয়েছে ৬১ লাখ ৪৫৭টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা করা হয়েছে ২১ লাখ ৫৬ হাজার ১৪টি। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগী শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৮০ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯০ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যু হার ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা যাওয়া ২৩৭ জনের মধ্যে পুরুষ ১৩৪ জন এবং নারী ১০৩ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনায় দেশে মোট পুরুষ মারা গেলেন ১৫ হাজার ৫১৮ জন এবং নারী মারা গেলেন ৭ হাজার ৮৮০ জন।

গত এক দিনে শুধু ঢাকা বিভাগেই ৫ হাজার ১৬৩ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে যা দিনের মোট শনাক্ত রোগীর অর্ধেক। এক দিনে মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগেই মৃত্যু হয়েছে শতাধিক মানুষের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, মারা যাওয়া ২৩৭ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১০৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৫৪ জন, রাজশাহী বিভাগের ১০ জন, খুলনা বিভাগের ২০ জন, বরিশাল বিভাগের আট জন, সিলেট বিভাগের ২৩ জন, রংপুর বিভাগের ছয় জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের রয়েছেন ১১ জন।

টিকার দ্বিতীয় ডোজ মজুত

আছে :স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

দেশে করোনা ভাইরাসের টিকার যারা প্রথম ডোজ নিয়েছেন তাদের জন্য দ্বিতীয় ডোজের টিকাও পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বুধবার কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভার্চুয়াল বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম। দেশে যারা ফাইজার এবং মডার্নার টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাদের দ্বিতীয় ডোজ নিশ্চিত করেই টিকা কর্মসূচি চালানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তারা চার সপ্তাহ পরে দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারবেন।’