কোভিড মহামারিতে দীর্ঘদিন সশরীরে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম থেকে দূরে থাকা, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যত্ কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জে দেশের তরুণসমাজ মানসিক ও আর্থসামাজিক গভীর সংকটপূর্ণ সময় পার করছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় যুব জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও ভবিষ্যত্ কর্মসংস্থান নিশ্চিতে দ্রুত ও বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। করোনাকালে শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ৯টি সুপারিশ করে সংস্থাটি।
আন্তর্জাতিক যুব দিবস (১২ আগস্ট) উপলক্ষ্যে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশে করোনা মহামারির কারণে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার ১৬ মাস পার হলেও সেগুলো খোলার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত সমন্বিত ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা নেওয়া যায়নি। দীর্ঘসময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কায় বাল্যবিবাহও বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনক হারে (২৬ শতাংশ)।
মহামারিতে যুব বেকারত্ব বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা সত্যি হতে চলেছে উল্লেখ করে ড. জামান বলেন, গত বছরই যুব-বেকারত্বের হার দ্বিগুণ হওয়ার যে আশঙ্কা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা করেছিল, এতদিনে তা আরো বেড়েছে এটি অনায়াসে বলা যায়। শুধু চাকুরি হারানোই নয় চাকরি বাজারে নতুন ধরনের পরিবর্তনও নিয়ে এসেছে মহামারি, যেখানে খাপ খাওয়াতে প্রযুক্তিগত ও কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজন বেড়েছে ব্যাপকভাবে।
মহামারির এই সময়ে তরুণদের শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র ও স্বাধীন মতপ্রকাশ নিশ্চিত করতে টিআইবির সুপারিশের মধ্যে রয়েছে—শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনার টিকা প্রদান করে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ খুলে দেওয়া, স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে সকল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন কার্যক্রম নিশ্চিত করে পরবর্তী স্তরে উত্তরণের ব্যবস্থা করা, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে তরুণদের যথাযথ কর্মসংস্থান তৈরি করা, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা, চাকুরির নিয়োগ প্রক্রিয়া দুর্নীতিমুক্ত রেখে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সমান প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা।
