নির্ধারিত সময়ের আগেই ভারতের লোকসভায় শেষ হচ্ছে বর্ষাকালীন অধিবেশন। আগামীকাল শুক্রবার অধিবেশন শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিরোধীদের বিক্ষোভ, হট্টগোলে প্রত্যাশা মতো কাজ হয়নি বলে গতকাল বুধবার লোকসভার বর্ষাকালীন অধিবেশন শেষ করার সিদ্ধান্ত জানান স্পিকার ওম বিড়লা।
অন্যদিকে, রাজ্যসভায় বিরোধীদের আচরণ দেখে কেঁদেই ফেললেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু।
কেন্দ্রের আনা তিনটি কৃষি আইন খারিজ করার দাবিতে মঙ্গলবার চেয়ারম্যানের সামনে ‘রিপোর্টারস’টেবিল’ এ বসে পড়েছিলেন বিরোধীরা। শুধু তাই নয়, স্লোগান দিতে দিতে এক এমপিকে বিধি-নিয়মের ফাইল ছুড়ে মারতেও দেখা গিয়েছিল চেয়ারে থাকা ডেপুটি চেয়ারম্যান ভুবনেশ্বর কলিতার দিকে। ঐ ঘটনার প্রসঙ্গ টেনেই বেঙ্কাইয়া নাইডু বলেন, বিরোধীদের আচরণে সংসদের পবিত্রতা নষ্ট হয়েছে। গণতন্ত্রের পবিত্র স্থানে মঙ্গলবার যা ঘটেছে, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে তার পরিণাম ভেবে আমি সত্যিই ভীত। সারা রাত ঘুমোতে পারিনি। কথা বলতে বলতেই কেঁদে ফেলেন উপ-রাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডু।
আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, গত ১৯ জুলাই সংসদে শুরু হয়েছিল বর্ষাকালীন অধিবেশন। তখন থেকেই পেগাসাস আড়িপাতা, নয়া কৃষি আইন, জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধিসহ একাধিক বিষয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সংসদে সরব হয়েছিলেন বিরোধীরা। শুরু থেকেই প্রায় প্রতি দিনই ঘণ্টার পর ঘণ্টায় মুলতুবি থেকেছে উচ্চকক্ষ এবং নিম্নকক্ষের অধিবেশন।
সংসদে অধিবেশন অচলাবস্থার জন্য বিরোধীদের দায়ী করে কড়া সমালোচনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিরোধীরাও পালটা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, পেগাসাস নিয়ে সংসদে আলোচনার দাবি কেন্দ্র না মানায় বিরোধীরা বিক্ষোভের পথে হেঁটেছে। বিরোধীদের দাবি মেনে গণতন্ত্রের মান রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় তার দায় কেন্দ্রকেই নিতে হবে।
