সংগীতাঙ্গনে যাত্রা কণ্ঠশিল্পী হিসেবে হলেও প্রথিতযশা শিল্পী থেকে শুরু করে নতুন প্রজন্মের অনেককে নিয়ে নিয়মিত কাজ করছেন সংগীতশিল্পী ধ্রুব গুহ। ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের মাধ্যমে রাখছেন দুই প্রজন্মের মেলবন্ধন সৃষ্টিতে অনবদ্য ভূমিকা। নিজের নতুন গান, ধ্রুব মিউজিক স্টেশনসহ ইন্ডাস্ট্রির সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
বর্তমান কাজ নিয়ে জানতে চাই—
করোনাকালে মিউজিককে সচল রাখতে যতটুকু কাজ করা যায় ততটুকু করার চেষ্টা করছি। গত ঈদেও ধ্রুব মিউজিক স্টেশন থেকে সিনিয়র-জুনিয়র শিল্পীর এক ডজনের মতো নতুন গান রিলিজ দিয়েছি। বর্তমানেও বেশ কিছু গানের কাজ চলছে।
অনেকেই সিনিয়র শিল্পীকে নিয়ে কাজ করতে অনিহা প্রকাশ করেন। কিন্তু আপনি এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হওয়ার কারণ কী?
দেখুন, আমি সিনিয়র-জুনিয়রের মাঝে সমন্বয় রেখে শুরু থেকেই কাজ করছি। এতে একে অন্যের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারার পাশাপাশি ভালো কাজ বের হয়ে আসছে। সিনিয়র-জুনিয়র বলে কোনো কথা নেই, আমি মেধার মূল্যায়ন করতে চাই।
গান দিয়ে সংগীতাঙ্গনে যাত্রা শুরু করেছেন। কিন্তু নিয়মিত প্রযোজনায় যুক্ত থাকায় আপনার নিজের গান কমে যাচ্ছে না?
হ্যাঁ, নিজের গান যে কমেছে সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে আমি তো পেশাদার শিল্পী নই। শখে গান করি। কিন্তু একটা সময় শ্রোতারা আমার গান পছন্দ করেছে বলে তাদের প্রত্যাশা বেড়েছে। যেহেতু ভালোলাগা থেকে গান করি সেহেতু গানের মানুষগুলোর সঙ্গে আবদ্ধ থাকতেও অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে। সবাই মিলেমিশে কাজ করেত গিয়ে নিজের গানকে একটু ছাড় দিয়ে হয়েছে আরকি!
মিউজিক ভিডিওর গানের মান কতটুকু বজায় রাখছে বলে মনে করেন?
এটা তো সময়ের দাবি। মিউজিক ভিডিও গানের কথা বললে মান কমে না। কিন্তু গানকে গুরুত্ব না দিয়ে মিউজিক ভিডিওকে গুরুত্ব দিলে তো মান কমবেই। আমার মনে হয়, বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে একটি ভিডিও থাকলেই হলো, বেশি চাকচিক্যের প্রয়োজন নেই।
একটি গান তৈরি করতে মিউজিক ভিডিওসহ অন্যান্য খাতে যে খরচ হয় সেটা ডিজিটাল রেভিনিউ থেকে কতটা উঠে আসছে?
এটা খুবই চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়। এখন একটি গান থেকে খরচ ওঠানো অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ কারণেই লেভেল কোম্পানিগুলো নাটকের দিকে ঝুঁকছে?
নিশ্চয়! এটা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। গান থেকে লগ্নি ফেরতের মিনিমাম নিশ্চয়তা থাকলে এমন অবস্থা তৈরি হতো না। কারণ আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি লেভেল কোম্পানি ব্যবসার পাশাপাশি গানকে ভালোবেসেই কাজ করেন।
এমন অনাগ্রহ তৈরি হলে ইন্ডাস্ট্রি কোনদিকে যাবে বলে মনে করছেন?
এখনো যে সবাই দূরে সরে গেছে তা কিন্তু না। সবাই মিলে যদি নতুন উদ্যেমে কাজ করার একটা উপায় বের করতে পারি তবে একটা সময় আবারো মিউজিক আলোর মুখ দেখবে।
নজরুল-রবীন্দ্র সংগীত নিয়ে আপনি নিয়মিত কাজ করছেন। এটা কী শিল্পী বলে, নাকি নিজেস্ব ভালোলাগা?
নিঃসন্দেহে আমার ভালোলাগা থেকে। যে গানগুলো আমি চোখ বন্ধ করে শুনতে পারি, যে গান আমাকে ভাবায়, হাসায়, কাঁদায়, সেই গানগুলো নিয়ে কাজ করতে অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে।
সাম্প্রতিক সময়ে কোন ঘরানার গানগুলো দর্শক-শ্রোতারা বেশি গ্রহণ করছে?
এটা তো সময়ের চাহিদা ও রুরি ওপর নির্ভর করে। ক’দিন আগেও একটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে, সস্তা কথার গানগুলো শ্রোতারা শুনছেন। কিন্তু এখন আমার কাছে মনে ফোক ঘরানার গানগুলো শ্রোতারা বেশি শুনছেন।
কাব্য মূল্যহীন অনেক গান ভাইরাল বনে যাচ্ছে। এতে করে কী শুদ্ধ সংগীত চর্চা ব্যাহত হচ্ছে?
ভাইরাল তো ক্ষণস্থায়ী একটি বিষয়। তাই এর সঙ্গে কোনোকিছুকে তুলনা করতে চাই না। ভালো গান ছিল, আছে, থাকবে।
