সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ ইউনিয়নে পদ্মা নদীর তেলিখাড়ি ঘাটে বজ্রপাতে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা কেউ কল্পনাও করেনি। আমাদের দেশে প্রতি বছর বজ্রপাতে অনেক মানুষ প্রাণ হারায়। বিশেষ করে হাওড় অঞ্চলে বজ্রপাতে বেশি মানুষ মারা যায়। বজ্রপাতের দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সবচেয়ে ঝুঁকিতে হয়েছে বাংলাদেশ। আবহাওয়াবিদদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আমাদের দেশে বজ্রপাতের ঘটনা বেশি ঘটে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাত ঠেকানোর ক্ষমতা মানুষের নেই। তবে বজ্রপাত থেকে বাঁচতে হলে আমাদের কিছু করণীয় আছে। বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় বড় কোনো গাছের নিচ থেকে পাঁচ মিটার দূরে অবস্থান করতে হবে এবং একসঙ্গে অনেকে থাকলে প্রত্যেকে ১০০ মিটার দূরে অবস্থান করতে হবে। বজ্রপাতের সময় ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তার, বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির ধাতব রেলিং, পাইপ স্পর্শ না করা। সম্ভব হলে বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক লাইন বিচ্ছিন্ন রাখা। আমাদের দেশে সাধারণত এপ্রিল থেকে জুন মাসে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। তাই এ সময় আকাশে কালো মেঘ দেখা দিলে নিরাপদে স্থানে অবস্থান করতে হবে। ব্রজপাতের সময় বাড়িতে পর্যাপ্ত নিরাপদ জায়গা না থাকলে আলাদা আলাদা কক্ষে অবস্থান করা। বজ্রপাতের সময় নদীতে অবস্থান করলে নৌকার ছাউনির মধ্যে থাকা। যথাসম্ভব বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন করা। যে এলাকায় তালগাছ বেশি আছে, সেখানে বজ্রপাতে কম মানুষ মারা যায়। কারণ বজ্রপাত তালগাছে পড়লে, তালগাছ বিদ্যুত্ টেনে নেয়। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বজ্রপাত থেকে বাঁচতে হলে বেশি বেশি তালগাছ লাগাতে হবে। সর্বোপরি, আমাদের সবার সচেতনতায় বজ্রপাতে মৃত্যু অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
মো. সাইফুল মিয়া
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
