দেশের শেয়ারবাজারে মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস গতকাল বৃহস্পতিবার। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সব কটি মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম। সেই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। গতকাল লেনদেনের শুরুতেই শেয়ারবাজারে বড় উত্থানের আভাস পাওয়া যায়। প্রি ওপেনিং সিস্টেম চালু থাকায় লেনদেন শুরু হওয়ার আগেই বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়িয়ে কেনার প্রস্তাব আসে বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে। ফলে শেয়ারবাজার খুলতেই ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২০ পয়েন্ট বেড়ে যায়।
গতকাল দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে ২০৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৪৪টির। আর ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৭৬ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৬৯৯ পয়েন্টে উঠে এসেছে, যা এযাবত্কালের মধ্যে সূচকটির সর্বোচ্চ অবস্থান।
অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ২৯ পয়েন্ট বেড়ে দুই হাজার ৪২৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ইসলামী শরিয়াহর ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৪৫৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এ দুটি সূচকও এখন এযাবত্কালের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। সব মূল্যসূচকের পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৬৬১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ২ হাজার ২১২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ৪৪৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ২৫৯ কোটি ৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লঙ্কা-বাংলা ফাইন্যান্সের ১২১ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ৭৬ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং, বেক্সিমকো ফার্মা, এবি ব্যাংক, মালিক স্পিনিং, ম্যাকসন স্পিনিং, ওরিয়ন ফার্মা ও শাইনপুকুর সিরামিক। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২৩৭ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৮৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩২৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯২টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০৪টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
