চট্টগ্রামে করোনা রোগীর চাপ ও মৃত্যু কমেছে

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২১, ২২:৩৬

চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত রোগী কমেছে। সরকারি হিসাবে শনাক্তের পরিমাণ ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। নগরীর সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আগের মতো করোনা রোগীর চাপ নেই। সব হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে সিট খালি রয়েছে। রোগীদের জন্য হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা ও আইসিইউ নিয়ে তেমন তদবির নেই। গত তিন দিন যাবত্ নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের পরিমাণ নিম্নমুখী দেখা যাচ্ছে। মৃত্যুর সংখ্যা দুই সংখ্যা থেকে নেমে এককের ঘরে এসেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রেরিত তথ্যে দেখা গেছে, ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৮৮৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৫৮৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আর একই সময়ে মারা গেছে ৯ জন। তার মধ্যে নগরীতে ৩৩৬ জন ও উপজেলায় ২৫৩ জন। তার আগে গত ১১ আগস্ট ৭৭২ জন শনাক্ত ও ১২ জনের মৃত্যু হয়, ১০ আগস্ট ৮৭৯ জন শনাক্ত ১০ জনের মৃত্যু, ৯ আগস্ট ৫০৭ জন শনাক্ত ও ১৩ জনের মৃত্যু, ৮ আগস্ট ৯৯৩ জন শনাক্ত ও ১৫ জনের মৃত্যু, ৬ আগস্ট ১ হাজার ১১৪ জন শনাক্ত ও ১৭ জনের মৃত্যু হয়।

চট্টগ্রামে করোনা রোগীর সবচেয়ে বড় চিকিত্সাকেন্দ্র চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। সরকারি এই হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য ৩০০ বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, করোনা রোগীর চাপ কমেছে। এখন আইসিইউ ও কেবিনসহ ২৪৯ জন কোভিড রোগী ভর্তি আছে। ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে করোনা রোগীর চাপ কমেছে। সরকারি এই হাসপাতালে পাঁচটি আইসিইউসহ ৫০ বেডের ব্যবস্থা রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার করোনা ওয়ার্ডে ৩৬ জন করোনা রোগী ভর্তি ছিলেন। হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. বখতেয়ার আলম বলেন, লকডাউনের সুফল মিলেছে। এটাকে ধরে রাখতে হবে। করোনা টিকা নিলেও স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে কোভিড রোগী কমেছে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. তানজিমুল ইসলাম বলেন, ওয়ার্ডে রোগী কমেছে। তবে আইসিইউ খালি নেই।

বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. রেজাউল করিম বলেন, আমাদের হাসপাতালে ১০ শতাংশ কোভিড রোগী কমেছে। ২৪ শয্যার আইসিইউ ইউনিটে ২২ জন ভর্তি আছে। আগে জায়গা না থাকায় কোভিড রোগী ফেরত দিতে হয়েছে। এখন অনেক কেবিন খালি আছে। বেসরকারী ম্যাক্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী চৌধুরী বলেন, আমাদের হাসপাতালে কয়েক দিন আগেও ৯০ জনের ওপরে কোভিড রোগী ভর্তি ছিল। এখন আইসিইউসহ ৭০ জন ভর্তি আছে। সিট খালি পাওয়া যাচ্ছে। রোগী ফেরত দিতে হচ্ছে না। লকডাউনের কারণে কিছুটা সুফল পাওয়া যাচ্ছে। আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের করোনা ইউনিটের প্রধান ডা. ফাহিম জানান, বর্তমানে হাসপাতালের আইসিইউসহ ১৬৫ জন কোভিড রোগী ভর্তি আছে।