দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে করোনার টিকা উত্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন টিকা উত্পাদন কারখানা হচ্ছে স্থাপিত হচ্ছে গোপালগঞ্জে সরকারি এসেনসিয়াল ড্রাগস লিমিটিডের ওষুধ কারখানার পাশে। টিকার কারখানার জন্য আট একর জমি অধিগ্রহণও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়ার পর জমি অধিগ্রহণসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাজও শুরু হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কারিগরি কমিটি প্রস্তাব পাঠাবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর টিকা উত্পাদনের কাজ পুরোদমে শুরু হবে। একই সুবিধায় পরবর্তী সময়ে যে কোন টিকা এই কারখানা থেকে উত্পাদন করা যাবে। টিকা কারখানাটি পরিচালিত হবে সরকারিভাবে। অনুমোদনের পর টিকার নামকরণ করা হবে।
দেশে দুই ধরনের টিকা উত্পাদনের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একটি স্বল্প মেয়াদী, অন্যটি দীর্ঘ মেয়াদী। এই মুহূর্তে দেশে যে চাহিদা রয়েছে, তার জন্য স্থানীয়ভাবে কিছু কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে, যাদের টিকা উত্পাদনের সক্ষমতা আছে। পুরো ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে এসেনসিয়াল ড্রাগস লিমিটেড। বর্তমানে দ্রুততম সময়ে স্বল্প মেয়াদী করোনার ভাইরাসের টিকা উত্পাদনের জন্য দেশীয় যোগ্য কোম্পানিকে বেছে নেওয়া হবে। বিদেশে একাধিক কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দেশে যেসব কোম্পানির টিকা উত্পাদন করার সক্ষমতায় রয়েছে, তাদের মধ্যে একটিকে উত্পাদনের দায়িত্ব দেওয়া হবে। বিদেশ থেকে কাঁচামাল এনে করোনা ভাইরাসের টিকা উত্পাদন করা হবে। দীর্ঘমেয়াদী টিকা উত্পাদনের ক্ষেত্রে আরো আড়াই থেকে তিন বছর সময় লাগবে। গোপালগঞ্জের এই কারখানায় থাকবে সর্বাধুনিক ল্যাব ও গবেষণার সার্বিক ব্যবস্থাপনা। শুধু করোনা নয়, যেকোন মহামারি হলে সেই মহামারীর ভ্যাকসিন তৈরি করাসহ সব ধরনের ভ্যাকসিন উত্পাদনের সক্ষমতা থাকবে এই প্রতিষ্ঠানে।
এসেনসিয়াল ড্রাগস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. এহসানুল কবির জগলুল জানান, দেশে করোনার টিকা উত্পাদনের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনের জন্য তার কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলে টিকার কার্যক্রম শুরু করবে বাংলাদেশ।
বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বলেন, করোনা সংক্রমণ শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশকে শিক্ষা দিয়েছে। প্রথম দিকে টিকা প্রাপ্তি নিয়ে নানা সমস্যা ও বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে। টিকা নিয়েও এক ধরনের রাজনীতি চলছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ টিকা উত্পাদনের মতো একটি বড় ধরনের প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণেই এই কঠিন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে।
