মাধব রায়, কথাসাহিত্যিক, সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)
ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট
গত বুধবারের পর
নীলকান্তবাবু বললেন, সুন্দর প্রশ্ন করেছিস। চৌম্বকক্ষেত্রের মান অন্যভাবে পরিমাপ করা হয়। চৌম্বকক্ষেত্রের দিকের সাথে সমকোণে একক বেগে চলমান একক চার্জের ওপর ক্রিয়াশীল বলের মান, ঐ চৌম্বকক্ষেত্রের মানের সমান।
তার মানে এর একক নিউটন? চন্দ্রা প্রশ্ন করল।
না না, নিউটন নয়।
তুমি যে বললে ক্রিয়াশীল বলের মান, তাহলে তো নিউটনই।
না। এর একক টেসলা। ক্রোয়েশিয়ার বিজ্ঞানী নিকোলা টেসলা (Nicola Tesla)র নাম অনুসারে এর নাম টেসলা। একে T দ্বারা লিখা হয়। এর আরেকটা একক আছে। এর নাম গাউস (Gauss), এক টেসলা সমান ১০ হাজার গাউস।
এক টেসলা কীভাবে হবে? অণু বলল।
যে চৌম্বকক্ষেত্রে এক কুলম্ব চার্জ চৌম্বকক্ষেত্রের দিকের সাথে সমকোণে সেকেন্ডে এক মিটার গতিবেগ প্রাপ্ত হলে এক নিউটন বল লাভ করে, সেই চৌম্বকক্ষেত্রের মান এক টেসলা। বললেন নীলকান্তবাবু। একটু থেমে প্রশ্ন করলেন-তাহলে 10T বলতে কী বুঝি?
আকাশ বলল, 10T হলো, কোনও চৌম্বকক্ষেত্রে 1 কুলম্ব চার্জ1 m/s বেগে গতিশীল হলে যদি 10 N বল লাভ করে, তাহলে ঐ চৌম্বকক্ষেত্রের মান হবে 10T।
থ্যাংক ইউ, বললেন নীলকান্তবাবু।
সীমা বলল-কিন্তু আমরা দেখলাম তড়িত্ প্রবাহের ফলে চুম্বক হয়, চুম্বকের ফলে তড়িত্ হয় কীভাবে, তা তো দেখলাম না।
নীলকান্তবাবু বললেন, ওয়েরস্টেড তড়িতের চৌম্বক ক্রিয়া আবিষ্কারের পর বিজ্ঞানীরা চিন্তা করতে লাগলেন, তাহলে তো উল্টোও হতে পারে। চুম্বকের ক্রিয়ায়ও তড়িত্ হতে পারে। এতে করে তিন দেশের তিনজন বিজ্ঞানী, ইংল্যান্ডে মাইক্যাল ফ্যারাডে (Michael Faraday), যুক্তরাষ্ট্রে জোসেফ হেনরি (Joseph Henry) এবং রাশিয়াতে হেনরিখ লেনজ (Henrich Lenz) পৃথক পৃথকভাবে বিষয়টির ওপর কাজ করতে থাকেন। এই তিনজনই আলাদা আলাদাভাবে সাফল্য লাভ করেন, কিন্তু প্রথম প্রকাশ করেন মাইক্যাল ফ্যারাডে ১৮৩১ সালে। ফলে তিনিই তড়িত্চুম্বকীয় আবেশ এর আবিষ্কর্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
ফ্যারাডে এই পরীক্ষা কীভাবে করেন? বলল আকাশ।
নীলকান্তবাবু বিন্দুকে বললেন-একটা চুড়ি নিয়ে আয় তো মা, লোহার চুড়ি।
কাঁচের চুড়ি হলে হবে না? বলল বিন্দু।
না, কাঁচ তো তড়িত্ সুপরিবাহক না।
বিন্দু খোঁজে খোঁজে একটা লোহার চুড়ি নিয়ে এলো।
নীলকান্তবাবু বললেন, এবার তোর চুম্বকটা দে।
তিনি বাম হাতে চুড়িটা ধরে রেখে ডান হাতে চুম্বকটা চুড়ির কাছে এনে ধরলেন, কয়েক সেকেন্ড পর চুড়িটা ধরে রেখে চুম্বকটা দূরে সরিয়ে নিলেন। সবাই চেয়ে চেয়ে দেখেছ। নীলকান্তবাবু বললেন এভাবে।
কিন্তু আমরা তো কিছুই দেখতে পারলাম না, কমলা বললেন। খালি চুড়ির কাছে চুম্বক আনা নেয়া দেখলাম।
এভাবে দেখা যাবে না। ফ্যারাডে কী করলেন, এই চুড়িটার মতো কয়েল এর মাঝখানে একটা গ্যালভানোমিটার যুক্ত করে দিলেন। এরপর চুম্বকটা কাছে আনার সময় দেখলেন গ্যালভানোমিটারের কাঁটা নড়ছে। কাছে আনার পর আর নড়ছে না। আবার দূরে নেয়ার সময় আবার নড়ছে। কিন্তু দূরে নেয়া হলে গেলে আর নড়ছে না।
আকাশ বলল, তার মানে হচ্ছে চুম্বকটা কয়েল এর কাছে আনার সময় এবং দূরে নেয়ার সময় বিদ্যুত্ উত্পন্ন হচ্ছে।
ঠিক বলেছিস, বললেন নীলকান্তবাবু। চুম্বকটা গতিশীল থাকলেই বিদ্যুত্ উত্পন্ন হচ্ছে, স্থির হয়ে গেলে আর হচ্ছে না।
পরের অংশ আগামীকাল
