বেকারত্ব একটা অভিশাপ। বেকার ছেলে পরিবার, সমাজ ও দেশের বোঝা। বেকারত্ব দূর করতে উদ্যোক্তা হওয়ার বিকল্প নেই। বেকারত্ব ঘোচাতে অনেক অবলম্বন আছে, অনেক খাত আছে। নিজের ইচ্ছাশক্তি থাকলেই সম্ভব বেকারত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া। কৃষি, মত্স্য চাষ, পোল্ট্রিশিল্প, গাভী-ছাগল পালন ইত্যাদিতে উদ্যোগী হয়ে বেকার জীবনের অবসান ঘটানো সম্ভব। এতে শুধু নিজের বেকারত্বই দূর হবে না, পাশাপাশি কর্মসংস্থান হবে অনেকের।
অল্প পুঁজি আর মনোবল নিয়ে হওয়া যায় সফল উদ্যোক্তা। বাংলাদেশের কৃষি খাত অনেক সম্ভাবনাময়। বর্তমান প্রযুক্তির এ যুগে যে কোনো ফসল, সবজি বা ফলে চাষ লাভজনক। সমন্বিত কৃষি খামার, মাছ চাষ, সবজি চাষ অপার সম্ভাবনা। বিদেশি বিভিন্ন ফল চাষ এখানে হচ্ছে। যেমন সৌদি খেজুর, ভিয়েতনামি নারকেল ইত্যাদি। মাছ চাষের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করার পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রা অর্জন করা যায়। দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা যায়। গাভী পালন, ছাগল পালন, ভেড়া পালন সহজলভ্য। অল্প পরিসরে বাড়িতেই শুরু করা যেতে পারে। এতে পুঁজিও লাগে অনেক কম। ইচ্ছাশক্তিই পারে বেকারত্ব দূর করতে।
দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ, মাছের সঙ্গে সমন্বিত হাঁস বা মুরগি পালন করা যায়। আবার মাছের সঙ্গে সর্জন পদ্ধতিতে করা যায় সবজি চাষ। অল্প জায়গায় একইসঙ্গে একাধিক ব্যবস্থা। গরু-ছাগল-ভেড়ার খামার করে বেকারত্ব দূর করার পাশাপাশি অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগকে কাজে লাগানো যায়। পোল্ট্রি, টার্কি, লেয়ার মুরগি অল্প পুঁজিতে স্বল্প পরিসরে পালন করা সম্ভব। একসময় কবুতর ছিল শখের বিষয়। শখ করে বাড়িতে কবুতর লালনপালন করতেন অনেকেই। তবে বর্তমানে কবুতর পালনও একটি বাণিজ্যিক মাধ্যম। হরেক রকমের কবুতর পালন করে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব। হাঁস পালনের মাধ্যমে বেকার জীবনের অবসান ঘটিয়েছেন অনেক শিক্ষিত তরুণ। পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে হাঁস পালন করে সফল হয়েছেন দেশের হাজারো তরুণ উদ্যোক্তা। হাঁস পালনে একইসঙ্গে মাংস ও ডিমের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
মৌসুমি সবজি চাষ বর্তমানে লাভজনক। এক্ষেত্রে তেমন পুঁজি লাগে না, এমনকি পরিশ্রমও কম। করলা, বেগুন, টমেটো, লাউ, কুমড়া, কপি, শিম আগাম চাষাবাদ করতে পারলে অধিক আয় করা সম্ভব। আর এসবের জন্য থাকতে হবে গভীর মনোযোগ। চাকরির পেছনে না ছুটে এসব পন্থা অবলম্বন করলে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব।
নাটোর
