তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২১, ২১:৩৩

এম এ হামিদ খান

ডিশএন্টেনা, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, ফেসবুক এবং সর্বশেষ সংযোজন ৪/৫জি আমাদের আধুনিক সমাজব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষেত্রে এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। গোটা বিশ্ব এখন আমাদের হাতের মুঠোয়। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মূলত আমাদের যুবসমাজের মধ্যে।

বিজ্ঞানের যেমন আশীর্বাদ রয়েছে, তেমনি রয়েছে এর অভিশাপও। তথ্যপ্রযুক্তির আশীর্বাদে আমরা ঘরে বসেই সবকিছু মুহূর্তের মধ্যে পেয়ে যাচ্ছি, কিন্তু একইসঙ্গে হারাতে বসেছি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে। স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো যেহেতু ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত, সেহেতু কিছু কিছু চ্যানেল কুরুচিপূর্ণ অনুষ্ঠান প্রচার করে যা আমাদের জীবন যাপন, সমাজ ও সংস্কৃতিতে বড়ই বেমানান এবং ক্ষতিকর। তথ্যপ্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার ইন্টারনেট। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেটের ব্যবহার অপরিহার্য। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালতে গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি সম্পন্ন করতে ইন্টারনেটের ব্যবহার ক্রমশ বেড়েই চলছে। কিন্তু ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা অপসংস্কৃতির করাল গ্রাসে আক্রান্ত। তারা রাত জেগে ইন্টারনেটে আপত্তিকর ছবি তথা পর্নোগ্রাফির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। মাদকের ব্যবহার বাড়ছে, শিখছে অপরাধের নতুন নতুন কৌশল। আধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হলো মোবাইল ফোন। মোবাইল প্রযুক্তি যোগাযোগব্যবস্থাকে খুবই ত্বরান্বিত এবং সহজলভ্য করেছে। মোবাইল ফোন এতই সহজ ও সুলভ পণ্য হয়েছে যে আজ স্কুলগামী ছাত্রছাত্রীদের হাতে রয়েছে এক বা একাধিক মোবাইল সেট। এসব মোবাইল সেটেও রয়েছে অডিও ভিডিও এবং ইন্টারনেট ও ফেসবুকের সংযোগ। শুধু কম্পিউটারের বড় পর্দায় নয়, মোবাইলের মাধ্যমেও আজ অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীদের ওপর পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। মেমোরি কার্ডে ধারণকৃত অশ্লীল এবং উত্তেজনাকর ছবি ছাত্রছাত্রীদের আসক্ত করে ফেলছে, তারা অভিভাবকের চোখকে ফাঁকি দিয়ে লেখাপড়ার পরিবর্তে রাত জেগে কুরুচিপূর্ণ ছবি দেখে থাকে।

অপসংস্কৃতির করাল গ্রাসে আক্রান্ত আমাদের যুবসমাজ আজ নীতিভ্রষ্ট। জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে। এখন তা এমন পর্যায়ে চলে এসেছে যে, অভিভাবক মহল ইচ্ছে করলেও তাদের সন্তানদের এপথ থেকে ফেরাতে পারছেন না। সরকারি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তত্পর হতে হবে আমাদের বিপথগামী যুবসমাজকে সুপথে ফিরিয়ে আনতে। সচেতন অভিভাবক মহল এবং সুধি সমাজকে এসব ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ থেকে যুবসমাজকে উদ্ধার করার জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তাদের রক্ষা করতে হবে নৈতিক অবক্ষয়ের হাত থেকে। এবং তা হতে হবে এখনই। এসব সর্বনাশা নেশার হাত থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করা আমাদের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।

টাঙ্গাইল