থিয়েটার,গান, মডেলিং, উপস্থাপনা প্রায় সব মাধ্যমেই সরব বিচরণ তার । আলিফ চৌধুরী’র এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পরিশ্রম আর লেগে থাকাটাই তার মূলমন্ত্র। কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
বর্তমান কাজ নিয়ে জানতে চাই—
বিটিভির দুটি নাটকের কাজ করছি। এর মধ্যে ‘জিন্দা বাহার’ নাটকটি পলাশীর যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত হচ্ছে। সেই সময়ের ঢাকাকে তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি বিটিভির ‘বাংলাদেশের হূদয় হতে’ নামের অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করছি। এছাড়া কিছু ওয়েব সিরিজের কাজের কথা চলছে।
এ ধরনের ইতিহাস নির্ভর গল্প এখানকার প্রেক্ষাপটে তুলে ধরা কী আদৌ সম্ভব?
নাটক-সিনেমাতে কিন্তু হরহামেশাই এ ধরনের গল্প উঠে আসছে। আমরা দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস ধরে নাটকটির শুটিং করছি সেই সময়ের আবহ তৈরি করে। সবচেয়ে বড় কথা দেশের গুণী নাট্যকার ও অভিনেতা মামুনুর রশীদ নাটকটি অনেকদিন ধরে গবেষণা করে লিখেছেন। নাটকটিতে সেই সময়ের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি দেখা যাবে।
আপনি নাটক, মডেলিং, উপস্থাপনাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করছেন। এটা কী ভালোলাগা, নাকি ক্যারিয়ারের প্রয়োজনে?
দেখুন, একটা মানুষ গানের পাশাপাশি নাচ করলেই যে দিক পরিবর্তন হচ্ছে, তা না। আমি শুরু থিয়েটারে কাজ করেছি, পাশাপাশি সেসময় সংগীতের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। এরপর র্যাম্প মডেলিং শুরু করার কারণে অভিনয় থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। পরবর্তীতে অভিনয় ও উপস্থাপনায় যুক্ত হওয়া। আসলে আমি যে কাজটি করি সেটা ভালোলাগা, ভালোবাসা দিয়েই করার চেষ্টা করি।
মঞ্চের খারাপ অবস্থার জন্য অনেকেই মানহীন নাটক ও দর্শকবিমুখতাকে দায়ী করছেন। আপনি কী মন্তব্য করবেন?
আমি মানহীন কাজ ও দর্শকদের দায়ী করবো না। আসলে বাণিজ্যিক চিন্তাধারায় সবাই অর্থ আয় ও তারকা হতে চাচ্ছেন। কিন্তু থিয়েটার করে আয় করবে পারবো এমন অবস্থা এখনো আমাদের এখানে গড়ে ওঠেনি। দু-একটা সংগঠন চেষ্টা করলেও সেটা বাস্তব চিত্র হয়ে ওঠেনি। ফলে আমরা থিয়েটার কর্মী হারাচ্ছি।
উপস্থাপনায় ছেলে উপস্থাপকের সংখ্যা কমার কারণ হিসেবে কী বলবেন?
আমি নারী-পুরুষ বিভেদ করতে চাই না। এক সময় হয়তো ছেলেদের দেখেই মেয়েরা অনুপ্রাণিত হতো। তাছাড়া এখনো ছেলে উপস্থাপক আছে, কিন্তু টিভিতে দেখা যাচ্ছে না। কারণ টিভিতে যারা বিজ্ঞাপন দেবে তারা যদি আগেই ঠিক করে দেয় যে, অমুক মেয়েকে উপস্থাপনার চেয়ারে চাই তাহলে তো ছেলেদের সুযোগ কমবেই।
কাজের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি কপি প্রবণতাও লক্ষ্যণীয়। এটা মান ধরে রাখার ক্ষেত্রে কতটা ইতিবাচক বলে মনে করেন?
এখন নাটক শুধু শিল্প মাধ্যম না, বাণিজ্যিক মাধ্যমও। একটা নাটকের জায়গায় একসঙ্গে ২০ নাটক বানাতে গেলে তো মান কমবেই। বলকে পারেন, নাটক নির্মাণ বেশি হওয়ায় ভালোর সংখ্যা কমছে। তারপরও ভালো নাটক হচ্ছে। এছাড়া কপি প্রবণতাও মান কমার আরেকটি কারণ। একটা থেকে কপি করতে গেলে পরের কাজটি ঝাপসা হবে এটাই স্বাভাবিক।
কপি প্রবণতা বা জোর ভাঁড়ামো নাটককে শুধু বিনোদনের মাধ্যমে পরিণত করছে। এতে সামাজিক দায়দ্ধতার জায়গা থেকে আমরা দূরে সরে যাচ্ছি কি-না?
নাটক অবশ্যই বিনোদনের মাধ্যম, পাশাপাশি একটি সামাজিক বার্তা দিতেই হবে। কিন্তু আগে প্রচার মাধ্যম কম থাকায় কম নাটক নির্মিত হতো, ফলে এই বিষয়টি চিন্তা করতেই হতো। কিন্তু এখন মাধ্যম ও দর্শক রুচির পরিবর্তন হওয়ায় নানা ধরনের কাজ করতে হচ্ছে।
ভিউ বাণিজ্য নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?
ভিউ মানে কিন্তু দর্শক দেখছেন। ভিউ ভালো, তবে ভিউ হলেই যে কাজটি মানসম্মত বা ভিউগুলো আসল সেটাও বলা যাবে না। কারণ অনেক খারাপ কাজেরও ভিউ হয়, আবার বুস্ট করেও ভিউ বাড়ানো যায়। অন্যদিকে ভালো কাজের ভিউ অনেক কম হয়। ভিউ নাটকের মানদণ্ড নির্ধারণ করে না।
ওটিটি মাধ্যমটি নিয়ে আপনার আশাবাদের জায়গা কোথায়? আদৌ কী এই মাধ্যমটিতে কাজের স্বাধীনতা থাকবে?
ওটিটি বড় একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। কারণ এটা কিন্তু আন্তর্জাতিক একটি মাধ্যম। আমাদের কাজ যদি মানসম্মত হয় তাহলে কিন্তু কাজটি শুধু দেশের মানুষ নয়, সারা পৃথিবীর মানুষ দেখবে। ভাষা এখানে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে না। আর স্বাধীনতা নিয়ে বলবো, স্বাধীনতা এমন একটি জিনিস যেটাকে ভালো-খারাপ দুই ভাবেই ব্যবহার করা যায়। এটা আসলে নির্ভর করছে যার যার মানসিকতার ওপর। যদি আমরা মাধ্যমটির অপব্যবহার না করি, তবে নিশ্চয় স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ থাকবে।
