মধুখালী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা
মধুখালীর বিভিন্ন হাটে আমনের চারা সংগ্রহ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। তবে এক দিকে অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় জমি তৈরি করতে দেরি হওয়া ও অন্যদিকে গত বছরের তুলনায় এবার চারার দাম বেশি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলার পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নে ৮ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মৌসুমে এ উপজেলায় মোট ৮ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ করা হয়।
সরেজমিনে উপজেলার সবচেয়ে বড় দুটি হাট মধুখালী সদর ও কামারখালী হাটে শুক্রবার দেখা যায়, দুটি হাটে চারার ব্যাপক আমদানি হয়েছে। হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদেরও ভিড় লক্ষণীয়। এমনকি বাইরের জেলা থেকেও চারা সংগ্রহ করতে মধুখালী হাটে দেখা যায় পিকআপ নিয়ে হাজির হতে। হাটে আসা একাধিক কৃষক জানান, শুক্রবার হাটে মানভেদে এক বোঝা চারা ৩৫০-৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এই চারার দাম ২৫০-৩০০ টাকা ছিল। গত বছরের তুলনায় এবার চারার দাম একটু বেশি। পৌরসভার এলাকায় আদর্শ চাষি আব্দুল হাই বাঁশী জানান, অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় এমনিতেই আমন রোপণে দেরি হচ্ছে। আবার এ বছর চারার দাম একটু বেশি। তবে কৃষক চারা সংগ্রহ করছেন।
মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলিভির রহমান জানান, রোপা আমন সাধারণত ভাদ্র মাস পর্যন্ত আবাদ করা হয়। শুক্রবার পর্যন্ত ৭ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে ইতিমধ্যে আমনের চারা রোপণ করেছে কৃষকরা। পুরো ভাদ্র মাস অর্থাত্ আরো প্রায় ২৫ দিন কৃষক আমন চারা রোপণ করবেন। তাতে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, নতুন জাতের চারা হওয়ায় দাম একটু বেশি। তবে এ চারায় ফলন বেশি হয়।
